‘ঘণ্টাখানেক ববিতা ম্যাডামের পায়ের কাছে বসে থাকবো’

শিরোনামের কথাগুলো নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। ছোটপর্দার নামি এ নির্মাতা গত বছর ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ নামে নিজের প্রথম ছবি মুক্তি দিয়েছেন।

শেখ নেয়ামত আলীর ক্ল্যাসিক ছবি ‘দহন’ প্রসঙ্গে কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার প্রসঙ্গ টানেন উজ্জ্বল। সঙ্গে নিজের সিনেমা নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের মন্তব্যকে টেনে আনেন। পাল্টা সমালোচনায় বলেন, “আপনাদের চোখ-কান পচে যাওয়ার দায় আমি কেন নেব ভাই।”

উজ্জ্বল শুক্রবার সকালে ইউটিউব লিংক শেয়ার করে ফেইসবুকে লেখেন, “শেখ নেয়ামত আলী পরিচালিত ‘দহন’ দেখতে দেখতে খুব আফসোস হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল আমি ঐ সময়টাতে পরিচালনায় আসতে কেন পারলাম না! কী মার্জিত, রুচিশীল সংলাপ প্রক্ষেপণ। প্রত্যেকটা মানুষের চোখে-মুখে শিক্ষা আর আভিজাত্যের ছাপ! এমন একটা সময়ের নির্মাতা আমি যখন শিক্ষা, আভিজাত্য, রুচিশীলতা কী বস্তু তা অনুধাবন করার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে মানুষ!”

নিজের সিনেমার সমালোচনা প্রসঙ্গে বলেন, “ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ চলচ্চিত্রে অনেক লো অক্টেভে সংলাপ প্রক্ষেপণ দেখে দু-চারজন যারা মনে করেছেন ডাবিং ভালো হয় নাই, বা অবাস্তব লেগেছে, তারা পারলে এই ছবিটা দেখেন। উচ্চকিত অভিনয় দেখে দেখে আপনাদের চোখ-কান পচে যাওয়ার দায় আমি কেন নেব ভাই, আমি তো এখনো সুস্থ আছি!”

‘দহন’-এ অভিনয় করেছিলেন ববিতা, হ‌ুমায়ূন ফরীদি-সহ টিভি ও সিনেমার অনেক তারকা।

ববিতায় ভীষণ মুগ্ধ উজ্জ্বল। তিনি বলেন, “ববিতা ম্যাডামের ঐ সময়কার কাজ দেখলে মনে হয়, আমি যদি তখন থাকতাম আমার সব সিনেমার নায়িকা উনি একা হতেন! ওনার চোখ, এক্সপ্রেশন আর সংলাপ প্রক্ষেপণে তো আত্মা কাঁপে! জীবনে যথেষ্ট দেশি-বিদেশি ছবি দেখেছি, ববিতা দুনিয়াতে একজনই! আমি অতিসত্বর ওনার সাথে দেখা করে ঘণ্টাখানেক পায়ের কাছে বসে থাকবো।”

‘দহন’ মুক্তি পায় ১৯৮৫ সালে। ছবিটি তিনটি বিভাগে জাতীয় ও ১০টি বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। এর মধ্যে বাচসাসের বিবেচনায় সেরা অভিনেত্রী হন ববিতা।