ভ্যাকসিন পাসপোর্টে বিভক্তি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি বিধিনিষেধ এখন। সীমান্তগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়াও নেওয়া হয়েছে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা। কিন্তু এতকিছু করেও কি করোনাভাইরাসের বিস্তার আটকানো যাবে, যে জিনিস চোখে দেখা যায় না। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করেছে। এই পাসপোর্ট যার থাকবে তিনিই শুধু ওই দেশগুলোতে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে কয়টি ভ্যাকসিন বাজারে বের হয়েছে তা এমন নিশ্চয়তা দিচ্ছে না যে, এই ভ্যাকসিন নিলে আর করোনা হবে না। বরং ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভ্যাকসিন পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উপসাগরীয় অঞ্চলভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশই আসে পর্যটন থেকে। আর করোনার কারণে বিশ্বজুড়েই পর্যটন খাতে ব্যাপক ধস নেমেছে। গত মাসেই গ্রিস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ব্রাসেলস যাতে ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট চালু করে ও ইইউর মধ্যে পর্যটকদের চলাচল সুবিধা দেয়। ওই আহ্বানের পর থেকেই এথেন্স ইসরায়েলের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। ওই চুক্তি অনুসারে টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা উভয় দেশের মধ্যে চলাচল করতে পারবে। একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী হ্যারি থিওক্যারিস। ব্রিটিশ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল সাইপ্রাসও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট সুবিধা চালুর পক্ষে।

স্পেন, ইতালি ও বুলগেরিয়াও আলোচনা চালাচ্ছে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালুর ব্যাপারে। উপসাগরভিত্তিক এয়ারলাইনস কোম্পানি এমিরিটাস ও ইতিহাদই প্রথম করোনা সার্টিফিকেটসহ যাত্রীদের বিমানে তোলা শুরু করে। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। সুইডেন ও ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট চালু করেছে। এ সার্টিফিকেটধারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ও দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট নামক একটি প্রকল্পে কাজ করছে এস্তোনিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বাস করে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে টিকা সরবরাহ ও কতসংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কিন্তু সংস্থাটি এই প্রকল্পের সার্টিফিকেটকে ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করার পক্ষে নয়। গত মাসে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্যাকসিন সংক্রমণ কমাচ্ছে কি না তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসার সময় হয়নি। এখনো ভ্যাকসিনের সংখ্যা সীমাবদ্ধ। ফলে একে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এএফপির মতে, সারাবিশ্বে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২২২ মিলিয়ন ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ এখনো শুরু করাই হয়নি।

ফ্রান্স ও জার্মানি এখনো ভ্যাকসিন পাসপোর্ট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। গত জানুয়ারিতে ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ের ভেরান বলেছিলেন, ‘এখনো সবাই ভ্যাকসিন পায়নি। এ ভ্যাকসিনে সংক্রমণ কমছে কি না তাও আমরা জানি না। আগামী কয়েক মাস পরে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট ব্যবহার করা ঠিক হবে কি না সে বিষয়ে এখনো অধিকাংশ দেশই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ নিয়ে সেইসব দেশ বা সংস্থাকেই অধিক তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে যাদের অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল।