খুলনা নগরীর প্রধান সমস্যা যানজট। অপরিকল্পিত নগরায়ণের সঙ্গে তুলনামূলক সরু সড়কে স্বল্প ও দ্রুতগতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে একগুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি), খুলনা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (কেডিএ) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ব্যস্ততম ময়লাপোতা মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক চার লেনের কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সড়ক সংলগ্ন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেডিএ ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের দরপত্র দিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সওজ বিভাগের আওতায় নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে দৌলতপুর হয়ে আফিল গেট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও নকশা করা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান জানান, নগরীর গল্লামারী-জিরো পয়েন্টে চার লেনের কাজে সড়কের মাঝখানে ১০ ফুট আইল্যান্ড, উভয় পাশে ১৫ ফুট করে সার্ভিস রোড ও একটি ওভারব্রিজ করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সার্ভিস রোডে রিকশা-ভ্যানসহ নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল করবে। এতে মূল সড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে সড়কে বেশি যানবাহন চলাচল করায় যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। এজন্য সড়কের বিপজ্জনক স্থানগুলো প্রশস্ত করা হচ্ছে। খুলনা-যশোর রোডে নগরীর ফেরিঘাট মোড়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। নগরীর শেরেবাংলা রোড প্রশস্তের পাশাপাশি গল্লামারীতে চার লেনের ব্রিজ করা হবে। এতে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। গল্লামারী ব্রিজ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, সার্ভিস রোড ও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকায় সড়কের এ অংশ প্রশস্তকরণের সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোর পাশাপাশি নগরীর যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে।’