বামজোটের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে যাওয়া বাম ছাত্রজোটের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার এ মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিচার চেয়ে আটক প্রতিবাদকারী সাত শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে এই ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।

কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবার মশাল মিছিল থেকে ৭ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে শনিবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

 শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, শনিবার সকালে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৩০৭, ৪২৭ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় মো. তামজিদ হায়দার (২২), নজির আামির চৌধুরী জয় (২৭), এ এস এম তানজিমুর রহমান (২২), মো. আকিব আহম্মেদ (২২), মো. আরাফাত সাদ (২৪), নাফিজা জান্নাত (২৪) ও জয়তী চক্রবর্তীর (২৩) নেতৃত্বে এক থেকে দেড়শ’ উগ্র দুষ্কৃতকারী মশাল মিছিল নিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শাহবাগ মোড়ের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশ তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানালে মিছিলকারীরা মশাল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ সদস্য আলামিনের বুলেট প্রুফ জ্যাকেটে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার, উপপরিদর্শক (এসআই) রোকন উদ্দিন, নিশাত, তোহা ইসলাম, দেলোয়ার, ফরহাদ, হাসানা, শিপন, মো. নুরুজ্জামান, পুষ্প তাজ আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ তিন রাউন্ড গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়।

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এ দিন সন্ধ্যায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলো মশাল মিছিল বের করে। সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা জানান, মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে শাহবাগ এলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ১৫ জন মিছিলকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।