‘বার্সাগেট’ কেলেঙ্কারিতে বেকায়দায় ছিলেন বার্সেলোনার সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। ধারণা করা হচ্ছিল যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন তিনি। সোমবার তাই হলো। বার্সেলোনার অফিসে অভিযান চালিয়ে বার্তোমেউ এবং ক্লাবটির দুই পরিচালক অস্কার গ্রাউ ও রোমান গোমেজ পন্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ রেডিও কাদেনা। পুলিশ যদিও গ্রেপ্তারদের নাম প্রকাশ করেনি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বার্তোমেউ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্সার কিছু খেলোয়াড়ের নামে দুর্নাম ছড়াতে একটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেন। যাদের নামে দুর্নাম ছড়াতে বলেছিলেন তাদের মধ্য আছেন লিওনেল মেসি, জেরার্ড পিকে, জাভি হার্নান্দেজের মতো খেলোয়াড়। মূলত যারা বার্তোমেউয়ের সঙ্গে একমত নন তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে ‘আই থ্রি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে ভাড়া করা হয়েছিল। গণমাধ্যমে এই কেলেঙ্কারির নাম দেওয়া হয় ‘বার্সাগেট’।
মেসি সে সময় বার্তোমেউর বোর্ডের অধীন চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সে কারণে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে নিয়েও উল্টোপাল্টা পোস্ট-কমেন্ট করা হতো বলে জানায় স্প্যানিশ রেডিও কাদেনা সের। আর জেরার্ড পিকের সমালোচনা করা হতো তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য। বার্সেলোনার আগামী সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে মেসি-পিকের ভালো সম্পর্কই হয়তো বার্তোমেউর গাত্রদাহের কারণ ছিল। জাভি-গার্দিওলা-ইনিয়েস্তা-পুয়োলদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি।
কাদেনা সের-এর রিপোর্টে ২০২০’র ফেব্রুয়ারিতে প্রথম গোপন চুক্তির কথা ফাঁস হলে ক্লাবের ৮ সদস্য পুলিশের কাছে বার্তোমেউর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। দুর্নীতি ও তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এই কলঙ্কের নাম তখন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়েছিল ‘বার্সাগেট’। এই কলঙ্কের কথা জানতে পেরে বার্তোমেউর অধীন বোর্ডের ৬ পরিচালক একসঙ্গে তখন বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। বার্তোমেউ অবশ্য তখন সরেননি। কিন্তু বার্সেলোনার সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আয়োজন করলে গত ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার বদলে ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পান কার্লেস তুসকেতস।
পেছাতে পেছাতে ৭ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। যে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তিনজন। বার্তোমেউ ও তার ‘গুরু’ সান্দ্রো রোসেলের আগে যিনি বার্সেলোনার প্রধান ছিলেন, সেই হুয়ান লাপোর্তা আবার দাঁড়াচ্ছেন নির্বাচনে। এখন পর্যন্ত তার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানাচ্ছে স্পেনের মিডিয়া। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সায় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখানো ভিক্তর ফন্ত ও টনি ফ্রেইসা। এই ফ্রেইসাও রোসেল-বার্তোমেউ ‘গং’-এর সদস্য বলেই শোনা যায়।