আলোচনার কেন্দ্রে মোতেরার উইকেট

জিমি অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো বোলাররা মনোযোগ টানতে পারছেন না। একই অবস্থা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং জো রুটের। অথচ মোতেরায় শেষ টেস্ট শুরুর আগের দিন এদেরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আলোচনা হচ্ছে উইকেট নিয়ে। গোলাপি বলের তৃতীয় টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়ার পর অন্য কিছু নিয়ে লোকের আগ্রহ নেই।

অথচ আহমেদাবাদের শেষ টেস্ট এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। যদিও পরপর দুই টেস্টে হারের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়া হচ্ছে না ইংল্যান্ডের। তবে তাদের ওপর নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। ভারতকে হারাতে পারলে লর্ডসের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অজিরা। সেই হিসাব মাথায় রেখে ইংলিশ অধিনায়ক রুট বলেছেন, ‘এই ম্যাচ জিতে আমরা সিরিজ ড্র রাখতে চাই। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এখন আর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ নেই আমাদের কাছে।’ রুট আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সাহসী ক্রিকেট খেলার সবরকম রসদ রয়েছে। তাই আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। তবে বেশি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সøগ খেলব না। আমাদের ভয় পেলে চলবে না, ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে হবে।’ মোতেরার গোলাপি বলের টেস্টে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন জো রুট। সেই টেস্টে ডম বেস খেলেননি। উইকেট আগের টেস্টের মতো হলে মোতেরায় বেস খেলবেন সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন রুট, ‘যদি পিচ আগের ম্যাচের মতো হয়, তবে ডম সেই পিচে বল করার লোভ সামলাতে পারবে না। সে দেখেছে একজন ব্যাটসম্যান হয়েও এই পিচে আমি ভালো বল করতে পেরেছি। আমার থেকে অনেক ভালো বোলার ডম। তাই সে আমার থেকে অনেক এগিয়ে।’ মোতেরার ভুল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উইকেটা বুঝতে পারিনি। সেই কারণেই ভুল দল বেছে ছিলাম। আমরা ভাবিনি গোলাপি বল এতটা স্পিন করবে।’

মোতেরার বাইশ গজ নিয়ে যে তুমুল বিতর্ক ভারতীয় অধিনায়ক রিবাট কোহলি সেটাকে পাত্তা দিতে চান না। তিনি বলেছেন, ‘ঘূর্ণি পিচ নিয়ে খুব বেশি কথা হচ্ছে। আমাদের দেশে ঘূর্ণি পিচেই খেলা উচিত। সেটা দেশের গণমাধম্যের প্রচার করাও উচিত। দেশে ও বিদেশে আমাদের দলের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ হলো পিচ নিয়ে বাড়তি আলোচনা করি না। কিংবা কেমন পিচ হওয়া উচিত সেটা নিয়ে কাউকে বাধা দিতে যাই না। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিজেদের খেলার উন্নতি করার চেষ্টা করে যাই।’ তিনি ২০২০ সালের নিউজিল্যান্ড সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেই সফরে দুই টেস্ট (২-০) হারের পর আমাদের ব্যর্থতা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে কেমন ধরনের পিচে আমাদের খেলতে হয়েছে সেই বিষয়ে একটা শব্দও লিখেছেন? উইকেটে বল ঘুরলেই সবাই একজোট হয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। কিন্তু বিদেশে পিচ ঠিকমতো তৈরি না হওয়ার জন্য বল আচমকা লাফিয়ে ওঠে। কোনো বল আবার নিচু হয়ে যায়। ফলে অনেক দল ৪০-৫০ রানের মধ্যে গুটিয়ে যায়। তখন বিদেশের পিচ নিয়ে কাউকে লিখতে দেখি না। আশা করি পরবর্তী সময় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডে সফরে গেলে আপনারা উইকেট নিয়ে প্রশ্ন করবেন। তাই ঘরের মাঠে ঘূর্ণি পিচে দুটি টেস্ট জিততেই এমন প্রশ্ন উঠলেও সেটা কাম্য নয়। একটা প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন? বিপক্ষ দল পাঁচ দিন পর্যন্ত ম্যাচ টেনে নিয়ে যেতে পারে সেইভাবে খেলব? না জেতার জন্য শুরু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ব? আমাদের কোনটা করা উচিত?’

ইংল্যান্ডের সাবেকরা খুব চেঁচামেচি করছেন মোতেরার উইকেট নিয়ে। যদিও খেলতে আসা ইংলিশ দলের ব্যাটসম্যানরা উইকেট নিয়ে বিতর্কে জড়াতে রাজি নন। ওপেনার জ্যাক ক্রলি বলেছেন, ‘উইকেটের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে জানি। কিন্তু তৃতীয় টেস্টের মতো পিচ দেওয়া হলে আমাদের কাছে কাজটা একটু হলেও সহজ হবে। গোলাপি বল খেলা কঠিন ছিল। বল দ্রুত ব্যাটে আসছিল এবং সে কারণেই অক্ষর প্যাটেল অতগুলো উইকেট বোল্ড বা এলবিডব্লিউতে পেয়েছে। আমি জানি তার কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু লাল বল এত দ্রুত ব্যাটে আসবে না। তবে গত সপ্তাহের মতোই পিচ হবে। গতবারের দুটি ঘূর্ণি পিচে ভারত ভালোই খেলেছে। আমরাই বরং ওদের থেকে পিছিয়ে ছিলাম।’