চাঁদে ২০২৩ ও মঙ্গলগ্রহে ২০২৬ সালের মধ্যে মানুষ নিয়ে যেতে চায় ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স। এজন্য স্টারশিপের নিয়মিত পরীক্ষা করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এবারের পরীক্ষাও সফল হলো না।
বিবিসি বলছে, মঙ্গলগ্রহে রকেট পাঠানোর জন্য কিছুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্পেসএক্স। গত তিন মাসে তিনবার স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষা চালালেও প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হয়। গত বুধবারও এমন একটি রকেটের পরীক্ষা চালানো হয়। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। স্টারশিপ এসএন-১০ নামের রকেটটি পরীক্ষামূলক উড়ান চমৎকারভাবে শেষ করে ফিরেও এসেছিল। অক্ষতভাবে অবতরণও করে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায় এবং তা ভেঙে পড়ে। সম্ভবত মিথেন লিক করায় এতে আগুন ধরেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে ভেঙে পড়েছিল স্পেসএক্সের রকেট।
গার্ডিয়ান বলছে, টেক্সাসের বোকা চিকা শহরে স্পেসএক্সের একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে গতি পরীক্ষার জন্য রকেটটি পাঠানো হয়। তবে মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় রকেটটি। এরপর আবার ফিরে এসে ল্যান্ডিং প্যাডে অবতরণ করে রকেট। এর কিছুক্ষণ পরই আগুন ধরে যায়। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রকেট ভেঙে পড়লেও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্পেসএক্স। কারণ রকেটটিতে আগুন ধরার আগে এটি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
স্পেসএক্স ইঞ্জিনিয়ার জন ইন্সপেক্টর বলেন, ‘আমরা ল্যান্ডিং প্যাডে একটি সফল স্পর্শ পেয়েছি।’ অবতরণ করার পরে রকেটটি কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছিল বা বিস্ফোরণের আগেই কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের পরিকল্পনা এ স্টারশিপে করে মানুষ নিয়ে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযান করা। স্টারশিপে করে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন জাপানের ধনকুবের ইউসাকু মাইয়েজায়া। বিনা খরচে আটজনকে চাঁদের আশপাশে ভ্রমণে তার সঙ্গী করতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করেছেন। ইউসাকু জানান, পুরো যাত্রার খরচ তিনিই দেবেন। সবমিলে নভোযানে ১০ থেকে ১২ জন থাকবেন। এটি হতে যাচ্ছে পুরোপুরি প্রাইভেট যাত্রা। তাকে প্রশ্ন করা হয়, এতে তো ঝুঁকির সম্ভাবনা অনেক। তার জবাব ছিল, ‘মাস্ক বলেছেন, কোনো সমস্যা হবে না। আমি তাকে বিশ্বাস করি।’