মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গাড়িতে গ্যাস ভরা নিয়ে ঝগড়ার জেরে ছুরিকাঘাতে জলিল মিয়া (২৬) নামে এক সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শমসেরনগর সিটি লভারসিজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জলিল উপজেলার আলীনগর ইউপির মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার ছেলে ও এক সন্তানের জনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফি প্রাইভেট কার নিয়ে শমসেরনগর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে যান। সেখানে সিএনজি চালক জলিল মিয়া (২৭) গ্যাস নিতে গিয়ে বড় গাড়ির লাইনে ঢুকে পড়েন। এ নিয়ে প্রাইভেটকার চালকের সঙ্গে জলিলের কথাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সিএনজি চালক জলিল মিয়ার বুকে ও পিঠে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। রাতেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। এ সময় ছুরিকাঘাতে মাইক্রোবাস চালক মনির মিয়াও আহত হন। তাকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের ভাই কাসেম মিয়া জলিলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত জলিলের স্ত্রী জরিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘যারা আমার স্বামীকে মেরেছে এবং আমার ছেলেকে পিতৃহারা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তার সংসারে রিয়াদ নামে ২ বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে।’
এদিকে সিএনজি চালক জলিল মিয়া ছুরিকাঘাতে নিহতের প্রতিবাদে সুষ্ঠুু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকাল ১০টা দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিএনজি চালকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা ভানুগাছ-শমসেরনগর সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও দ্রুত তদন্তক্রমে ঘাতকদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, ‘এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত সিএনজি চালকের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঘাতকদের খোঁজে বের করতে পুলিশ অভিযানে আছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’