গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের সাজা বৃদ্ধি বিষয়ে রুল জারি করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত একটি ভার্চুয়াল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
মান্নানকে বিচারিক আদালতে দেওয়া রায়ের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ এ আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় এমএ মান্নানের করা আপিলসহ একত্রে শুনানি হবে আগামী ১১ এপ্রিল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বাসস-কে এ কথা জানান।
দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান।
অর্থ আত্মসাতের মামলায় গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র এমএ মান্নানকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ সৈয়দ কামাল হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এছাড়া এ মামলায় অন্য আসামি গোলাম কিবরিয়াকে খালাস দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় এমএ মান্নান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার মতে, আসামি এমএ মান্নান গাজীপুরের মেয়র হিসেবে থাকাকালে (২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ভুয়াভাবে ৯৯৯টা ভাউচারের অনুদান ও ব্যয় দেখিয়ে গাজীপুর সিটির ত্রাণ এবং দরিদ্র তহবিল থেকে ৪৯ লাখ এক হাজার ৮৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেন এমএ মান্নান ও গোলাম কিবরিয়া।
এ ঘটনায় দুদকের উপসহকারী পরিচালক সামছুল আলম ২০১৬ সালের ২৩ জুন গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় এমএ মান্নান ও গোলাম কিবরিয়ার নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি এম এ মান্নান ও গোলাম কিবরিয়ার নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক। এরপর গাজীপুরে স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে বদলে করেন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ছয়জন সাক্ষ্য দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করে দুদক।