পুরনো ৯ বাদ নতুন মুখ ৫

নেপালে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলে নতুনের ছড়াছড়ি। সর্বশেষ কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের স্কোয়াড থেকে চোট ও পারফরমেন্সের কারণে বাদ পড়েছেন ৯ জন। বাকি ১৪ জনের সঙ্গে কোচ জেমি ডে নিয়েছেন নতুন পাঁচ জনকে। আর অতীতে খেলা পাঁচজনকে ফিরিয়েছেন। স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রাখা হয়েছে ৭ জনকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের চিন্তা করে। সবাইকে নিয়ে ১৩ মার্চ কভিড-১৯ টেস্টের পরের দিন ঢাকায় শুরু হবে স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্প।

বিশ^কাপ বাছাই স্থগিত হয়ে যাওয়ায় মার্চের শেষভাগে নেপালে একটি আমন্ত্রণমূলক ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক নেপাল জাতীয় দল ছাড়াও ওই আসরে খেলবে কিরগিজস্তান অলিম্পিক দল। আর এই সিরিজটাকেই সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য বড় প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে নিয়েছেন জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। গতকাল তিনি ২৪ সদস্যের যে দল ঘোষণা করেছেন তাতে রয়েছে নতুনের ছড়াছড়ি।

চোটের কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথমপর্বের কোনো ম্যাচই খেলেননি জাতীয় দলের অন্যতম স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। বাকি মৌসুমও আবাহনীর হয়ে খেলার সম্ভাবনা নেই তার। এছাড়া বসুন্ধরার হয়ে লিগ খেলা অবস্থায় চোট পান ডিফেন্ডার তপু বর্মন। এই দুজন ছাড়া বাকি সাতজনকে জেমি দলে রাখেননি লিগের পারফরমেন্স বিবেচনায়। তবে বসুন্ধরার হয়ে তিন গোল করা তৌহিদুল আলম সবুজের সুযোগ না পাওয়াটা বিস্মিত করেছে অনেককে। বসুন্ধরার ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান, মিডফিল্ডার রবিউল হাসান ও আতিকুর রহমান ফাহাদ সেভাবে খেলারই সুযোগ পাননি লিগে। দলটির উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের গোলকিপার পাপ্পু হোসেন ও বাংলাদেশ পুলিশের ম্যাথিউজ বাবলুর পারফরমেন্স মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না।

দীর্ঘ দেড় বছর ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে এই মৌসুমে বসুন্ধরার হয়ে নিয়মিত খেলা মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনির ফেরাটা অনুমেয়ই। চোটের কারণে কাতার ম্যাচ মিস করা আবাহনী গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেল নিজেকে প্রমাণ করেই ফিরেছেন। তবে টুটুল হোসেন বাদশা সেভাবে ধারাবাহিক না থেকেও সুযোগ পেয়েছেন তপুর চোটের সুযোগে। বসুন্ধরার সাইড বেঞ্চ গরম করা ফরোয়ার্ড মতিন মিয়াও বাদশার মতোই ভাগ্যবান। তবে স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৬ গোল করে জাতীয় দলে ফিরেছেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। লিগের প্রথমপর্বে ভালো খেলে জেমি ডে’র নজর কেড়েছেন কিংসের রিমন হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সুমন এবং ফরোয়ার্ড মেহেদী হাসান এবং মোহামেডানের হয়ে নতুন করে নিজেকে চেনানো মিডফিল্ডার হাবিবুর রহমান সোহাগ। জেমি ডে অবশ্য স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রাখতে চান আব্দুল্লাহর সমান ৬ গোল করা উত্তর বারিধারার অধিনায়ক সুমন রেজাকে। ‘ও আসলেই খুব ভালো খেলেছে। কোনো ভয়ডর দেখিনি ওর খেলায়। আমার চোখে লিগের প্রথমপর্বের স্থানীয়দের মধ্যে সেরা ফরোয়ার্ড সে’ সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন জেমি।

কলকাতা মোহামেডানের হয়ে আই-লিগে খেলা অধিনায়ক জামাল ভুইয়াকে নেপালের এই টুর্নামেন্টে পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে। ২১ মার্চ মোহামেডানের হয়ে ম্যাচ খেলে জামাল আদৌ নেপালে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন কি না সেটা সময়ই বলে দেবে। জেমি ডে অবশ্য জামালকে নিয়ে চিন্তিত নন, ‘২১ মার্চ ওর ম্যাচ আছে। তাই আমি মনে করি ওর নেপালে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়াটা কঠিন। ও আসলে তো ভালোই। না এলেও আমাদের সাতজন তরুণ রয়েছে স্ট্যান্ডবাই তালিকায়, তাদের মধ্য থেকে কাউকে দলে নেব।’ অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে নতুনে আস্থা রাখা প্রসঙ্গে জেমি বলেন, ‘দলে ১০ জন নতুন যোগ হয়েছে। আমার জন্য বড় সুযোগ এদের পরখ করে নেওয়ার। অতীতে যারা খেলেছে, তাদের চেয়ে এই নতুনরা যদি ভালো করে তবে এদের নিয়েই আমরা জুনের চ্যালেঞ্জ (বিশ্বকাপ বাছাই) নেব। আর যদি এরা ব্যর্থ হয়, তবে পুরনোরা তো রয়েছেই।’ যোগ করেন, ‘লিগের প্রথমপর্বের সেরাদেরই দলে নিয়েছি। অতীতে যারা খেলেছেন তাদের অনেকের চেয়ে নতুনরা বেশি নজর কেড়েছে। পুরনোদের মধ্যে কয়েকজন ভাগ্যবান, কারণ তারা লিগে খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই সুযোগ পেয়েছেন অতীতে ভালো করায়। আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্যই নেপাল যাব। তাই বলে হেরে গেলে খুব বেশি হতাশ হওয়ারও কিছু নেই।’ অনূর্ধ্ব ২৩ দলের সাত ফুটবলারকে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কাঠমান্ডু নিয়ে যেতে চান জেমি ডে।

২৪ সদস্যের জাতীয় দল

গোলরক্ষক : আনিসুর রহমান জিকো, আশরাফুল ইসলাম রানা, শহীদুল আলম সোহেল।

ডিফেন্ডার : বিশ্বনাথ ঘোষ, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, রহমত মিয়া, টুটুল হোসেন বাদশা, রিমন হোসেন, মোহাম্মদ ইমন, মেহেদী হাসান।

মিডফিল্ডার : বিপলু আহমেদ, জামাল ভুঁইয়া, সোহেল রানা, মানিক হোসেন মোল্লা, রাকিব হোসেন, মাসুক মিয়া জনি, হাবিবুর রহমান সোহাগ।

ফরোয়ার্ড : সাদউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, সুমন রেজা, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মতিন মিয়া, মেহেদী হাসান।

অনূর্ধ্ব-২৩ দল থেকে স্ট্যান্ডবাই তালিকায় : মিতুল মারমা, মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, আবু সাহেদ, মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন, ইমরান হাসান রিমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মোহাম্মদ জুয়েল।