মিফতাহুল জান্নাত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর দশজন শিক্ষার্থীর মতো তার চোখে আলো নেই। তবে এ প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে।
এ জন্য কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে হার মানেননি। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এ নারী সম্প্রতি পেয়েছেন জয়িতা পুরস্কার।
গত সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও চাকরি শাখায় সাফল্যের জন্য দেশসেরা জয়িতার সম্মাননা পান এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন জান্নাত। কৃষক আবদুস সাত্তার ও নুর জাহান বেগম দম্পতির ৯ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট তিনি। জান্নাতের আরও দুই বোন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পড়াশোনা চালাতে ছোটবেলা থেকেই জান্নাতকে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
গাজীপুরের একটি বিশেষায়িত হোস্টেলে থেকে প্রাথমিকের পড়া শেষ করেন তিনি। ২০১২ সালে বগুড়ার সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৪ নিয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর মানবিক বিভাগে বগুড়ার সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
সেসময় খরচের চিন্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর বিষয়ে জান্নাতের বাড়ি থেকে আপত্তি জানায়। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪তম ব্যাচে ভর্তি হন তিনি। স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জান্নাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চোখে দেখতে না পাওয়ায় শিক্ষাজীবনে নানা বাধা এসেছে। অন্যরা যখন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়, আমি তখন শ্রুতিলেখক খুঁজেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম দিকে অনেক সময় বাড়ি থেকে নিয়ে আসা শুকনো খাবার খেয়ে কাটিয়েছি। প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করা সংগঠন ফিজিকালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্টের (পিডিএফ) ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে দ্বিতীয় বর্ষে বৃত্তি পেয়েছি। এরপর বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিতাম। সেখান থেকে কিছু টাকা পেতাম। চতুর্থ বর্ষে এসে একটি এনজিওতে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়েছি।’
জয়িতা সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। আমার মতো আরও অনেকেই রয়েছেন। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা এ পর্যায়ে আসতে পারেনি। যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
এখন পড়াশোনা শেষে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন রয়েছে জান্নাতের।