আসামির বাবার নামের সঙ্গে নিজের বাবার নামের মিল থাকায় একটি মামলায় বিনাদোষে চার মাস সাজা ভোগ করতে হয়েছে নিরীহ ভ্যানচালক মিন্টু মোল্যাকে।
ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির নাম আশরাফ আলী। চার মাস আগে বেনাপোল পোর্ট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা মিন্টু মোল্যাকে ধরে এনে আসামি আশরাফ আলী নামে আদালতে সোপর্দ করেন। সেই থেকে তিনি বিনাদোষে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।
ব্লাস্টের প্যারালিগ্যাল প্রকল্পের আইনগত সহায়তায় অবশেষে তিনি আদালতে ওই মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার যুগ্ম দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক তাকে মামলার দায় থেকে অব্যহতির আদেশ দেন।
এদিন রাত ৮টার দিকে তাকে মুক্তি দেয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
মিন্টু মোল্যা শার্শা উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের মহর আলী মোল্যার ছেলে। অপরদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি আশরাফ আলী একই গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে।
যশোর ব্লাস্টের প্যারালিগ্যাল প্রকল্প অফিসার অ্যাড. জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনা জানান, গত ৬ মার্চ সেবা সুরক্ষা বিষয়ক দুজন উপসচিব যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিদর্শনে আসেন । এ সময় তারা জানতে পারেন প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরীহ এক ব্যক্তি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বিষয়টি প্যারালিগ্যাল কর্মকর্তারাও জানতে পারেন। এরপর তারা যশোরের অর্থঋণ আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে নির্দোষ আশরাফ আলী ওরফে মিন্টু মোল্যাকে মুক্ত করতে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেন।
এ সময় দেখা যায়, প্রকৃত আসামি আশরাফ আলীর ছবির সঙ্গে আটক মিন্টু মোল্যার ছবির কোনো মিল নেই। মিন্টু মোল্যা নিরক্ষর। ঠিকমতো স্বাক্ষরও করতে পারেন না। এ কারণে আশরাফ আলীর সঙ্গে তার স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। আদালতে এসব তথ্য উপস্থাপন করার পর শুনানি শেষে বিচারক মিন্টু মোল্যাকে ওই মামলার দায় থেকে অব্যহতির আদেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে আদালত অন্য কোনো মামলায় আটক রাখার প্রয়োজন না হলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ককে আদেশ দিয়েছেন।
মিন্টু মোল্যা জানান, ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানার মাসুম দারোগা এবং কালো কবির চৌকিদার তাকে আসামি আশরাফ আলী বলে বাড়ি থেকে ধরে আনেন। আটকের সময় তিনি বারবার বলেন যে, আসামির বাবার নাম ও তার বাবার নাম একই হলেও তার নাম আশরাফ আলী নয়। কিন্তু দারোগা তার কথা শোনেননি। তাকে ধরে এনে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আসামি আশরাফ আলী নামে। সেই থেকে বিনাদোষে দীর্ঘ চার মাস সাজা ভোগ করেছেন। কয়েকদিন আগে একজন সচিব কারাগারে এসেছিলেন। তিনি তাকে বিনাদোষে সাজা ভোগ করার কথা বলেছিলেন। এরপর আদালত থেকে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় তাকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
স্বামী মুক্তি পাচ্ছেন প্যারালিগ্যাল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে বিকেলে মাকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে ছুটে আসেন ফাহিমা বেগম। তিনি জানান, আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধ না করায় তার এক বছরের জেল হয়ে যায়। রাতে যোগাযোগ করা হলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান জানান, আদালতের আদেশে আশরাফ আলী নামে এক আসামিকে তারা মুক্তি দিয়েছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার জানা নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের থানায় একজন এসআইয়ের নাম মাসুম এবং একজন এএসআইয়ের নাম মাসুম। কে মিন্টু মোল্যাকে ধরে এনেছিলো তাও তিনি জানেন না।