ষষ্ঠ শ্রেণি : বিজ্ঞান

দ্বিতীয় অধ্যায় : জীবজগৎ

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

আশরাফুল তার মামার সঙ্গে পার্কে বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের জীব যেমন রাইজোবিয়াম, ইউগ্লেনা, পেনিসিলিয়াম, মস, ফান, আম, জাম, পাখি দেখতে পায়। সে তার মামাকে বলল কী উপায়ে এদের সম্পর্কে সহজে জানা যায়। তার মামা বলল শ্রেণিকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে।

ক. শ্রেণিকরণ কাকে বলে?

খ. মনেরা রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?

গ. আশরাফুলের দেখা জীবগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে কেন?

ঘ. আশরাফুলের মামার উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ক. সব জীবকে বিভিন্ন স্তরে বা ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিকরণ বলে।

খ. মনেরা রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :

১. জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।

২. এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না।

গ. পৃথিবীর সব জীব এক রকম নয়। এদের মিল অমিলের ওপর ভিত্তি করেই শ্রেণিকরণ করা হয়। আশরাফুলের দেখা জীবগুলোর মধ্যে ভিন্নতার কারণ হলো এদের গঠন স্বভাব বাসস্থান খাদ্য

প্রভৃতি। আশরাফুল যেসব জীব দেখেছে সেগুলোর কোনোটি এককোষী, কোনোটি বহুকোষী। কোনোটি খালি চোখে দেখা যায়, আবার কোনোটি খালি চোখে দেখা যায় না। কোনোটি স্বভোজী, আবার কোনোটি পরভোজী। কোনোটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, আবার কোনোটি বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। এদের মধ্যে কোনোটি মেরুদণ্ডী প্রাণী আবার কোনোটি অমেরুদ-ী প্রাণী। এসব বৈশিষ্ট্যগত ও গঠনগত ভিন্নতার জন্যই আশরাফুলের দেখা জীবগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

ঘ. বর্তমান ও অতীতের জীবকে জগৎ, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি ইত্যাদি ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করাকে শ্রেণিকরণ বলে। শ্রেণিকরণ করা হয় জীবের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে। একই ধরনের সব জীবকে একই শ্রেণিতে স্থাপন করা হয়। যার ফলে ওই শ্রেণির একটি জীবের বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জীব শনাক্ত করা একজন মানুষের পক্ষে খুবই সহজ হয়। শ্রেণিকরণ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর সব জীব থেকে উপকারী, অপকারী জীব শনাক্ত করা যায়। এদের স্বভাব বাসস্থান, গঠন, বৈশিষ্ট্য জানা যায়। তাই আশরাফুলের মামার উক্তিটি যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয়।