বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নিয়োগে ব্রিটেনের বিধিনিষেধ

বাংলাদেশসহ মোট ৪৭টি উন্নয়নশীল দেশ থেকে চিকিৎসাকর্মী নিয়োগের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ব্রিটেন। আগে ১৫২টি দেশ এই তালিকায় ছিল।

গত মাসের শেষ দিকে ব্রিটিশ সরকার তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে নতুন এই নীতিমালার কথা জানায়। স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক নিয়োগের জন্য নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।

২০২৪ সাল নাগাদ ব্রিটিশ সরকার ৫০ হাজারের মতো নার্স নিয়োগ দিতে চায়। এই টার্গেট পূরণে শতাধিক দেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে ৪৭টি দেশের জন্য নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। তবে অভিবাসী হওয়ার জন্য আগের মতোই দেশগুলোর চিকিৎসকেরা আবেদন করতে পারবেন।

ব্রিটেন সরকার নতুন যে তালিকা দিয়েছে সেখানে এশিয়া থেকে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের নাম দেখা গেছে। বাকি দেশগুলোর মধ্যে আফ্রিকান অঞ্চলের নাম বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন ‘কোড অব পলিসির’ উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটেন জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও’র সুপারিশ অনুযায়ী ব্রিটেনের নিয়োগকারীরা এই দেশগুলো থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন না। তবে জি-টু-জি বা সরকার থেকে সরকারে চুক্তি থাকলে দিতে পারবেন।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের দেশে বেশি বেশি স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচও’র ‘রেড লিস্ট’ অনুসরণ করতে ৪৭ দেশকে বাদ রাখা হয়েছে।

দেশটির সমাজসেবা মন্ত্রী হেলেন হোয়াটলি সব দেশের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ব্রিটেনে বিদেশি যেসব চিকিৎসক অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিয়োগের ব্যাপারে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বনের জন্য আমরা সারা পৃথিবীর সঙ্গে কাজ করব।’

‘সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারণে দেশীয় চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন নীতিমালা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেবে।’