তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মেরসিনে গত বৃহস্পতিবার একটি পরমাণু চুল্লির তৃতীয় রিঅ্যাক্টরের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছে আঙ্কারা ও মস্কোর কর্মকর্তারা। চুল্লিটির প্রথম রিঅ্যাক্টরটি ২০২৩ সাল থেকে চালু হবে এমনটা বলা হচ্ছে। আর বাকি রিঅ্যাক্টরগুলো ২০২৬ সাল নাগাদ চালু হয়ে যাবে। মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে পরমাণু চুক্তির আট বছর পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আকিউ চুল্লিটি নির্মাণ শুরু হয়। এ প্রকল্পের মালিক রাশিয়ার জ¦ালানি কোম্পানি রোসাটম। আকিউ এখানে শুধুই লাইসেন্সের মালিক ও স্থানীয় অপারেটরের ভূমিকা পালন করছে।
চুল্লির কাজ শেষ হলে এ থেকে বছরে ৩৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এ চুল্লির আয়ুষ্কাল ৫০ বছর। ‘লিগ অব নিউক্লিয়ার এনার্জি কান্ট্রিজ’ দেশভুক্ত কাতারে পড়বে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান একে তুর্কি-রাশিয়ার সহযোগিতার চিহ্ন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন একে ‘সত্যিকারের ফ্লাগশিপ প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আকিউ তুরস্কের প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প হলেও কৃষ্ণ সাগরের সিনোপ প্রদেশে এটি দ্বিতীয় প্রকল্প। তুরস্ক মিত্ররাষ্ট্র জাপানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন আরও একটি চুল্লি চালু করতে পারে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৩ সালে উভয় দেশের সরকার এ সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকও করে। সিনোপে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এমন চুল্লি স্থাপনে অনেকটাই এগিয়েছে উভয় দেশ।
সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তুর্কি কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, তুরস্ক তৃতীয় পরমাণু প্রকল্পের চিন্তা করছে যেখানে চারটি রিঅ্যাক্টর থাকবে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ওই প্রকল্প শুরু হতে পারে। কিন্তু ওই প্রকল্পটি পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নের জন্য করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। তবে বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাংকরা তুরস্কের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটনের ননপ্রোলিফেরাশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হেনরি ডি সোকোলস্কি বলেন, ‘আকিউ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার ওপর তুরস্কের নির্ভরতা বাড়ছে। তুরস্ক কেন ঋণের মধ্যে থেকেও এমন বড় প্রকল্পে হাত দিয়েছে তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।’
তুরস্কের পরমাণুপ্রীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব এবং জর্ডানও এখন পরাশক্তিধর দেশ হতে চাইছে। মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অনেকটা এগিয়েছে। নিজেদের দেশে তারা পরমাণু প্রকল্প চালুর প্রশ্নে ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্রের মজুদের বিষয়টি তুলে ধরে। যদিও আমিরাত ও মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের এখন সুসম্পর্ক রয়েছে।