টেস্ট ক্রিকেটে ২১ বছরে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক নিজে খেলছেন ৮ বছর ধরে। কিন্তু এখনো টেস্টে ‘শিখছি’ শব্দ লেগে আছে বাংলাদেশের নামের সঙ্গে। টাইগারদের অনেক পরে টেস্টে এসে তাদেরই হারিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। টেস্টে নেমে তারা ১৬০ ওভারের বেশি খেলে সাড়ে ৫শ ছোঁয়া ইনিংস খেলছে কিন্তু বাংলাদেশের হাত থেকে প্রায় জেতা ম্যাচ ফসকে যায়। আবার কঠিন ম্যাচ জিততে পারছে না সঠিক পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সের অভাবে। অধিনায়ক মুমিনুল হক এই অবস্থার শেষ চান। এবার শেখার পাঠ থামিয়ে জয়ের পাঠ খুলতে চান। ক্রিকবাজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন এমনটাই
শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রস্তুতি কেমন?
মুমিনুল হক : আমি নিজে অনুশীলন করছি। টেস্ট দলের কিছু ক্রিকেটার দেশে আছে বাকিরা তো নিউজিল্যান্ডে। আমার মনে হয় এই সময়টা আমাদের কাজে লাগানো উচিত। আমার স্কিল সমস্যাগুলো নিয়ে এখনই কাজ করার সময়। অবশ্য ম্যাচ অনুশীলন ছাড়া ভুল শুধরানো কঠিন। সামনের জাতীয় লিগে আমাদের সেই সুযোগটা আছে। সেখান থেকে ভালো অনুশীলন পেতে পারি এবং এখন কোন অবস্থায় আছি সেই ধারণাও। উইন্ডিজ সিরিজের আগে আমার জন্য কঠিন ছিল কারণ ইনজুরিতে ছিলাম। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে জাতীয় লিগের ম্যাচ পাব। আশা করি এবার প্রস্তুতি ভালো হবে।
উইন্ডিজ সিরিজের আগে অনুশীলন ম্যাচ খেলা উচিত ছিল বাংলাদেশের?
মুমিনুল : হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের লম্বা দৈর্ঘ্যরে ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। আমরা দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছি ওয়ানডে সিরিজে এর ফলও পেয়েছি। ওয়ানডে সিরিজের পর একটু গ্যাপ ছিল তখন কথা হচ্ছিল যে বিশ্রাম নেব না খেলব। আমরা প্রায় এক বছর পর টেস্ট খেলছিলাম, এটা সিরিজে সবার পিছিয়ে থাকার একটা কারণ।
অধিনায়কত্বে কতটা উন্নতি করতে পেরেছেন। বিশেষ করে বোলার ব্যবহারে?
মুমিনুল : একটা উন্নতি তো হয়েছেই। কিন্তু সবসময়ই রুটিন মেনে সবকিছু হয় না। যেমন কখনো একজন বোলারকে বেশি ওভার করাতে চাইলেও মাঠে তার বোলিং দেখে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়। আবার বোলিং চেঞ্জ করার সময় আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে যে ওই বোলার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তবে এটা ঠিক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোলিং পরিবর্তন বা বোলার ব্যবহারে আমি নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারব।
যখনই বাংলাদেশ কোনো টেস্ট বা সিরিজ হারে রব ওঠে যে দল এখনো শিখছে। আমাদের ক্রিকেটে এখন এটাই ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। তো আপনারা কতটুকু শিখেছেন?
মুমিনুল : আসলে আমি আর শিখতে চাই না। আমরা গত ২০ বছর ধরে শিখছি এখন যদি আরও ১০ বছর শিখি তাহলে আমাদের ক্যারিয়ারই তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। ম্যাচ যদি জিততে না পারি তবে এই শেখার বিষয়টা কিন্তু গুরুত্বহীন। আমাদের দ্রুত শিখতে হবে এবং মাঠে ফল আনতে হবে। আমরা যদি র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে না পারি তবে এই শেখার ও অভিজ্ঞতার কোনো দাম থাকবে না। আমাদের শেখার চেয়ে বেশি ম্যাচ জিততে হবে।
বাংলাদেশের নিয়মিত ব্যাটিং সমস্যার কারণটা কী?
মুমিনুল : টেস্ট ক্রিকেট কিন্তু সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে একদম আলাদা। লম্বা ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে ওঠাটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। সেশন বাই সেশন ব্যাট করাও একটা চ্যালেঞ্জ। এছাড়া আমরা অনেক গ্যাপে টেস্ট খেলি। নিয়মিত টেস্ট খেললে এই ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হতো। আমি শুধু টেস্ট খেলি তাই এই ফরম্যাটের সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিতে পেরেছি। কিন্তু এটা আমি অন্যদের থেকে আশা করতে পারি না। এসব কারণে আমাদের ব্যাটসম্যানরা টেস্টে এখনো সেরাটা দিতে পারছে না। আরও একটা বিষয় আমি মনে করি, টেস্টে রান করার ক্ষুধাটা ওদের (সব ফরম্যাট খেলা ব্যাটসম্যান) কম।
অভিজ্ঞদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছেন কি?
মুমিনুল : হ্যাঁ, এদিক থেকে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তামিম-সাকিব ভাই বা অন্যদের কাছ থেকে আমি পূর্ণ সমর্থন পাই। এটা নিয়ে আমি খুশি।
শ্রীলঙ্কায় পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছেন না। সাকিব নেই, ভবিষ্যতে আরও কেউ না থাকলে সেভাবে নিজেকে তৈরি করছেন কি?
মুমিনুল : যদি আগামী ২/৩ বছর অধিনায়ক থাকি তবে অনেক পরিবর্তনই আসবে এবং এটার সঙ্গে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে। সবসময় একই রকম দল আমি পাব না। তাছাড়া শুধু সাকিব ভাই না আরও কেউ না থাকতে পারে। এটা আমার হাতে নেই। তাই এটা নিয়ে ঘুম হারাম করে লাভ নেই। যাদের পাব তাদের নিয়েই সামনে এগোতে হবে।
শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী হবে?
মুমিনুল : পুরো সিরিজটাই চ্যালেঞ্জের হবে। কারণ আমরা উইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ফল পাইনি। তাই এই সিরিজে ভালো করার চাপ থাকবে। নিউজিল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট খেলে টেস্টের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ হবে।
অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন?
মুমিনুল : যখন দল হারে অধিনায়ক হিসেবে চাপটা আমার ওপর থাকবেই। দায়িত্বে সফল না হলে চাপ আসবেই। আমি মনে করি এই চাপের সময়টাতেই যোগ্য নেতা হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। কারণ এই সময় ফোকাসটা আপনার ওপর থাকে। এই সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্যাটিং ভালো করলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে। সেদিক থেকে আমি নেতৃত্ব উপভোগ করছি।