করোনার মন্দায় বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বানাচ্ছেন মাস্ক-গাউন

সাঁতার কাটার জন্য ডিজাইনার সুট তৈরির জন্য বিখ্যাত কারখানাকে বদলে দিয়েছে কভিড-১৯। এখন এখানে তৈরি হচ্ছে করোনার সুরক্ষা সামগ্রী।

ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেঁচে থাকার তাগিদে ডিজাইনার কার্লা কোলেটো অনেকের মতো পাল্টে ফেলেছেন কারখানার চরিত্র।

২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভার্জিনিয়াতে অবস্থিত কার্লার কারখানাটি ডিজাইনার সাঁতারের পোশাকের পরিবর্তে ফেইস মাস্ক ও মেডিকেল গাউন তৈরিতে মনোযোগ দেয়। এর অন্যতম কারণ, করোনার সময় ডিজাইনার সাঁতারের পোশাকের বিক্রি ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

সংস্থাটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য মুখের মাস্ক উৎপাদন করতে শুরু করে, কিছু কিছু তামা-সংযুক্ত মাস্ক তৈরি করা হয়, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ জীবাণুর সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা রয়েছে। এই মাস্কগুলোর বিশেষত্ব হলো, ত্রিশবার পর্যন্ত ধুলেও অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য থাকে।

এ বিষয়ে কার্লা কোলেটো বলেন, “আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে মাস্ক তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাঁতারের পোশাক তৈরির খুব মিল আছে। এর অনেক উপাদান ও কৌশল একে অপরের পরিপূরক।”

এখন পর্যন্ত কার্লা কোলেটো ব্র্যান্ড ২২ হাজারের বেশি তামা-সংযুক্ত মাস্ক এবং ১৫ হাজারের বেশি মেডিকেল গাউন উৎপাদন করেছে। এ গাউনগুলোর ওপরে একটি বিশেষ ধরনের জল-প্রতিরোধী আস্তরণ আছে, যার জন্য ত্রিশবার ধোবার পরেও তাদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো টিকে থাকে।

কার্লা বলেন, “মহামারির সময় অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়েছিল, সামাজিক দূরত্বের জন্য যন্ত্রপাতিগুলো পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছিল, এমনকি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসির সব নির্দেশিকা আমাদের অনুসরণ করে কাজ করতে হচ্ছিল।”

এ সংস্থা বিভিন্ন দাতব্য কেন্দ্রের সঙ্গে নানারকম উদ্যোগে যৌথভাবে কাজ করছে। কার্লা আরও বলেন, “আমাদের মাস্ক বিক্রির অর্থের একটি অংশ ‘ফ্যাশন গার্লস ফর হিউম্যানিটি’ সংস্থাকে দান করা হয়।”

২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর অলাভজনক সংস্থা ফ্যাশন গার্লস ফর হিউম্যানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য হলো মানবিক উদ্যোগ ও জরুরি পরিষেবার জন্য অর্থ সংগ্রহ। এখন করোনোর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি চিকিৎসা কর্মীদের সহায়তায় মনোযোগ দিয়েছে।