ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত ভাবে অডিট পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ফারজানা রহমানের দাবি, নিয়ম মেনেই অডিট পরিচালনা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী অডিট পরিচালনা করার জন্য একাডেমিক কমিটি বা সিএনডি কমিটির অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন তবে বর্তমান চেয়ারম্যান একাডেমিক কমিটি বা সিএনডি কমিটির সভা ছাড়াই অডিট পরিচালনা করেছেন।
৭৩ এর অধ্যাদেশের ৪৩ ধারার ২ নং উপধারা অনুযায়ী, বিভাগের চেয়ারম্যান কেবল রুটিন বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করবেন। সমস্ত নীতিগত বিষয় দুটি বিভাগীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে, যথা: (ক) বিভাগের সমস্ত শিক্ষক সমন্বয়ে একাডেমিক কমিটি (খ) ন্যূনতম তিনজনসহ বিভাগের মোট শিক্ষকের এক-তৃতীয়াংশ সমন্বয়ে সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি (সিএনডি)।
অডিটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, কিসের অডিট! এই রকম তো কোন বিষয় আমি জানি না। অডিটের বিষয়টি আমি এই প্রথম শুনলাম। এটা একাডেমিক কমিটিতে কখনো আলোচনা হয়নি। আমি খুব অবাক হচ্ছি, এটা কবে হলো। অডিট হলে তো আমার জানার কথা ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই বিভাগের একজন শিক্ষক বলেছেন, অডিট একটি ভালো প্রক্রিয়া। অডিটের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আসে। অডিট করার আগে বিভাগের সকলের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এটা লুকানোর কোন বিষয় না। যেহেতু লুকানো হয়েছে তার মানে এখানে কোন ঝামেলা আছে।
তিনি বলেন, আমার ধারণা একটি বিশেষ মহল ক্রিমিনোলজি বিভাগ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের সাবেক চেয়ারম্যানের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভবত তাকে হেয় করার জন্যই সবার অজান্তে এই অডিট করানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোন বিভাগে অডিট করার ক্ষেত্রে অডিটরকে বিভাগের সাথে যুক্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। অডিটরের অপরিহার্য কাজ সবাইকে অবহিত করা। তাকে বিভাগের সকলের কাছ থেকে তাদের কাজের বিবরণ সংগ্রহ করতে হয়। সেগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হয়।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান চাইলে বিভাগে অডিট করাতে পারেন। তবে সেটি অবশ্যই একাডেমিক কমিটির অনুমিত নিয়ে করতে হবে। এর বাইরে কেউ যদি অডিট পরিচালনা করেন সেটি স্পষ্টভাবে ৭৩ এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন। এটি যদি কেউ করে থাকেন সেটা অবশ্যই ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন, ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার জন্য।
বিভাগটির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, কবে অডিট হয়েছে এটা জানি না। কীভাবে এটা হয়েছে আমি কিছুই জানি না। অডিটের বিষয়টি আমি প্রথম আপনার মুখ থেকে শুনলাম। এটা আমার জন্য লজ্জাজনক যে আমার বিভাগের বিষয় আমি জানি না অথচ আপনি জানেন। হতে পারে এটি কোন মহলের ষড়যন্ত্র।
বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমানের বলেন, আমি চেয়ারম্যান হয়ে দেখলাম বিভাগে কোন অডিট হয়নি, তাই একটা অডিট করার উদ্যোগ নিই। যথাযথ নিয়ম মেনেই অডিট করা হয়েছে। বিভাগ থেকে কোন চিঠি রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এ পাঠানো হলে সেখানে লেখা থাকে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজটি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে অডিট করার জন্য কোষাধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেছিলাম। এখানে একাডেমিক কমিটির অনুমতির প্রয়োজন নেই।
তবে অডিট করার পূর্বে একাডেমিক কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান চাইলে অডিট করাতে পারে। এসব বিষয় দেখবে বিভাগের শিক্ষকরা। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে একাডেমিক কমিটি।