সিলেবাস শেষ করার উপায়

অনেক ছাত্রছাত্রী আছে অলসতা করে সময় নষ্ট করে। পরীক্ষার আগে হতাশ হয়ে পড়ে। কী করে এত বড় সিলেবাস শেষ করবে। তাদের জন্য কিছু উপায় জানালেন ফারাহ বিলকিস

প্রতিদিনের পড়ার রুটিন করো

আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার মধ্যে মোটামুটি তিন ধরনের বিষয় রয়েছে স্মৃতিশক্তি-নির্ভর বিষয়, সমস্যা সমাধানমূলক বিষয় এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণমূলক বিষয়। জীববিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল এই ধরনের বিষয়গুলোকে মোটামুটিভাবে প্রথম ভাগে রাখা যায়, যেগুলোয় মুখস্থ করার মতো প্রচুর কনটেন্ট আছে। আবার পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, হিসাববিজ্ঞান এ ধরনের বিষয়গুলোকে দ্বিতীয় ভাগে রাখা যায়। একই রকমভাবে, বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্য এগুলোকে রাখা যায় তৃতীয় ভাগে। সারা দিনের পড়ার রুটিন করার সময় একই ধরনের বিষয়গুলোকে একই সঙ্গে না সাজিয়ে বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য অন্য ধরনের বিষয়গুলোকে পরপর সাজানো উচিত। এতে পড়ায় ক্লান্তি আসার সম্ভাবনা কমে যায়।

মূল বিষয়ে মনোযোগ দাও

পুরো পড়াকে দুই ভাগে করা core material (মূল উপাদান) এবং elaborative material (বিস্তৃত উপাদান)। মূল উপাদানের মধ্যে থাকবে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, তত্ত্ব, ডায়াগ্রাম ও গ্রাফ। আর বিস্তৃত উপাদানের মধ্যে থাকবে উদ্ধৃতি, উদাহরণ, ইলাস্ট্রেশন প্রভৃতি। মূল বিষয়গুলো অধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়ো।

শেখা জিনিস নোট করো

একবার লেখো, দশবার পড়ার সমান হবে। শেখা জিনিস লেখার ফলে অনেক বেশি মনে থাকে। আবার, পড়ার সময় কম বোঝা অনেক কিছু হঠাৎ পরিষ্কার হয়ে যায়। সময় কম থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, পয়েন্ট, চিত্র ইত্যাদি পড়ার পর নোট করে ফেলো। এগুলো পরীক্ষার আগের রাতে চোখ বোলানোর জন্য দারুণ কাজে দেবে।

একসঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি পড়া নয়

একটানা পড়ার উপযোগী সময় হলো দুই ঘণ্টা। দুই ঘণ্টার বেশি একটানা পড়া ঠিক নয়। মনোযোগ ব্যাহত হয়। ভালো হয়, দুই ঘণ্টা সময়কেও পাঁচ মিনিটের বিরতিতে ভাগ করে নিলে। ২৫ মিনিট পড়ে পাঁচ মিনিটের বিরতি নাও, তাহলে দেখবে পুরো ১২-১৪ ঘণ্টা পড়েও ক্লান্তি লাগবে না।

ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়া

 বিশাল অধ্যায় নিয়ে বসলে পড়তে ঝামেলা হয়। তার চেয়ে অধ্যায়টা ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিয়ে পড়া ভালো। প্রতিটি ভাগের কি-ওয়ার্ড ঠিক করে নিতে হবে। অর্থাৎ, ওই অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টুকু আলোচিত হয়েছে, সেটি মাথায় রাখো বা লিখে রাখো।

মাথার বিশ্রাম দিও

দুই ঘণ্টা পড়ার পর এক ঘণ্টা বিরতি নিয়ে এ সময় বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কারও সঙ্গে পড়াশোনা বা পরীক্ষা নিয়েই আলোচনা করলে প্রকৃত বিরতি নেওয়া হলো না। বিরতির সময়টুকু পড়ার বাইরে থাকো। মাথাকে চাপমুক্ত রাখা জরুরি।

পড়া চোখে পড়ার ব্যবস্থা করা

গুরুত্বপূর্ণ সাল, তারিখ, ভোকাব্যুলারি, সূত্র যেগুলো মনে রাখতে কষ্ট হয়, স্টিকি নোট করে রাখো কিচেনে, বাথরুমে কিংবা ঘরের এমন সব জায়গায়, যেগুলোয় তোমার বেশি যাতায়াত ঘটে। আসা-যাওয়ার পথে চোখ পড়তে পড়তে সেগুলো একসময় আত্মস্থ হয়ে যাবে। ফ্ল্যাশকার্ডও তৈরি করে রাখতে পারো।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিভিশন দেওয়া

যেকোনো নতুন তথ্য শিখে সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিভিশন না দিলে ৮০% সম্ভাবনা থাকে ভুলে যাওয়ার। তাই, শেখা জিনিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রিভিশন দিয়ে ফেলো।