গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে হাসপাতালের এক চিকিৎসক অটোরিকশার কিশোর চালকের মাথা মাটিতে পা দিয়ে চেপে ধরারর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের ওপরও তিনি চড়াও হন। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই সাইফুল ইসলামের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের ডিউটি শেষে ডা. মাসুদ রানা নগরীর আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় তার বাসায় ফিরছিলেন। এসময় হাসপাতাল ফটকের সামনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাসুদ রানা চালক নাসিরকে (১৬) হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে অটোচালককে বালিতে ফেলে দিয়ে ডা. মাসুদ ওই অটোচালকের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখে।
তারা বলেন, এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডা. মাসুদ রানা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকেও কিলঘুষি মেরে আহত করেন উত্তেজিত চিকিৎসক মাসুদ। মূহূর্তে খবরটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
অটোচালক নাসির জানান, আমার অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডা. মাসুদ রানা পড়ে যান। পরে আমি তার কছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমাকে জোরপূর্বক কলার চেপে ধরে হাসপাতালে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তিনি আমাকে বালির মধ্যে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরলে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
এদিকে ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম জানান, একটি বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ড. মাসুদ রানাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন। তার কিলঘুষিতে আমার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
এ ব্যাপারে ডা. মাসুদ রানা জানান, আমি রিকশাচালককে মারধর করা অবস্থায় হঠাৎ পুলিশ সদস্য সাইফুল এসে আমাকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাভেদ মাসুদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু উভয়ে সরকারী কর্মচারী তাই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।