ফরিদপুরে সংক্রমণ বাড়ছে বাগেরহাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা

গত কয়েক মাসের তুলনায় ফরিদপুরে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে করোনায় আক্রান্তের হার। করোনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানালেও জেলায় বাড়ছে রোগী।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ৮ হাজার ৫২৭ জন। যার মধ্যে মারা গেছেন ১২০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৫০ জন। করোনা টেস্টের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় আক্রান্তের হার ২১ দশমিক ৩৯, এর বিপরীতে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪০। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় করোনা টেস্ট করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৯৩ জনকে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের সবারই করোনা প্রতিরোধে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তবেই মহামারী এ ভাইরাসকে জয়ী করতে পারব।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, করোনা প্রতিরোধে আবারও আমরা জনসচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছি। নিয়মিত শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পিছপা হব না। অন্যদিকে বাগেরহাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জনবহুল হাটবাজারগুলোতে চলছে মানুষের অবাধ চলাফেরা। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আর মারা যান ২৬ জন।

ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাট শহরের মাছবাজার, কাঁচাবাজার, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই, দোকানগুলোর সামনে না আছে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা, না আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। দেখে মনে হবে সবকিছু স্বাভাবিক।

বাগেরহাট ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রব সরদার এ প্রতিবেদককে বলেন, সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। বাগেরহাটের জনবহুল হাটবাজারে চলাফেরা করা অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। যার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মুখপাত্র মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত দাস জনবহুল হাটবাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক বলেন, সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক দল এসব জনবহুল স্থানে আসা-যাওয়া করা সাধারণ মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তার জন্য মনিটরিং করছে।