কোচ জেমি ডে যখন শিরোপা কিংবা জয়-পরাজয়কে একপাশে রেখে নেপাল সফরকে শুধুই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে নিচ্ছেন, তখন তার শিষ্যদের মুখে শোনা যাচ্ছে অন্যরকম লক্ষ্যের কথা। ফুটবলাররা বুকে বুনেছেন শিরোপা জয়ের লক্ষ্য। আজ নেপাল যাচ্ছে জাতীয় দল। তার আগে কাল শেষবারের মতো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরিয়েছেন ফুটবলাররা। নেপাল সফর নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ হলেও দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানা শিরোপার বাসনার কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন। আর তরুণ স্ট্রাইকার সুমন রেজা শোনালেন ঘরোয়া লিগে নিয়মিত গোল করার অভ্যেসটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা।
এদিকে দেশ ছাড়ার আগের দিন করোনা পজিটিভ হয়েছেন উইঙ্গার রাকিব হোসেন। মঙ্গলবার করোনা শনাক্ত হলে রাকিবকে হোটেল কক্ষে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। গতকাল সকালে আবার তার পরীক্ষা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই পরীক্ষার ফল আসেনি। রাকিব ছাড়া দলের বাকি সদস্য সবার ফল নেগেটিভ এসেছে। নেপালে গিয়েও কভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হবে তাদের। সেই পরীক্ষায় উতরে গেলে কোয়ারেন্টাইনের ঝক্কি পোহাতে হবে না দলকে। প্রথম থেকেই তারা পাবে অনুশীলনের সুযোগ।
গতকাল দেশের মাটিতে শেষবারের মতো অনুশীলন শেষে আবাহনীর অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানা নেপালে নিজে লক্ষ্যের কথা জানালেন, ‘আমি চাইব শিরোপাটা দেশে নিয়ে আসতে। দল যতই শক্তিশালী হোক, কেউ ট্রফির নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। তবে আমরা চেষ্টা করতে পারি।’ নেপালে অনুশীলনের সুযোগটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সোহেল, ‘একটা লম্বা সময় আমাদের লিগে ম্যাচগুলো খেলতে হয়েছে। তাই সবার মধ্যেই খানিকটা ক্লান্তি আছে। কোচ আমাদের রিকভারির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। কীভাবে সেরাটা দিতে পারি, সেটা নিয়ে কোচরা কাজ করছেন। পাসিং, ফিনিশিং, ডিফেন্ডিং নিয়ে কাজ হয়েছে। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে নেপালে গিয়ে কাজ হবে। নেপালের উচ্চতায় খানিকটা দমে সমস্যা হয়ে থাকে। নেপালে পাঁচদিন আগে যাচ্ছি। যেটা সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আমাদের সহায়তা করবে। আমাদেরও চেষ্টা থাকবে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের মানিয়ে নিয়ে ভালো ফুটবল খেলার।’
বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলবে ২৩ মার্চ কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে। এরপর ২৭ মার্চ নেপালের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে ২৯ মার্চ ফাইনালে খেলার বিষয়টি। প্রিমিয়ার লিগে ছয় গোল করে স্থানীয়দের মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন উত্তর বারিধারার স্ট্রাইকার সুমন রেজা। নাবিব নেওয়াজ জীবন ইনজুরির কারণে দলে নেই। মতিন মিয়া, মাহবুবুর রহমান সুফিলরা নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। সুমন রেজাই হতে যাচ্ছেন আক্রমণভাগে জেমির প্রধান অস্ত্র। দেশের মাটিতে গেল নভেম্বরে নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে অভিষিক্ত সুমন রেজা এখনো গোলের দেখা পাননি। তা নেপালেই পেতে চান, ‘লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াটা অবশ্যই আমাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা জাতীয় দলের জার্সিতে ধরে রাখতে পারলে ভালো লাগবে। নতুন যারা আছে, তারাও যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে দল অবশ্যই ভালো করবে।’