গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। দু’পর্বেই ম্যানসিটির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। এবার দু’দলের খেলা পড়েছিল ভিন্ন দু’দলের সঙ্গে। আতালান্তার মাঠে প্রথম লেগ ১-০তে জিতে এসেছিল রিয়াল। আর বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখকে ২-০ গোলে হারিয়ে সিটিজেনরা স্বস্তিতে ছিল তুলনামূলকভাবে। মাদ্রিদে ৩-১ গোলে দ্বিতীয় লেগ জিতে (দু’পর্ব মিলিয়ে ৪-১) দুই মৌসুম পর কোয়ার্টারে উঠেছে মাদ্রিদিস্তারা। অন্যদিকে নিজেদের মাঠে আরও একবার ২-০ গোলে জিতে জার্মানদের দু’পর্ব মিলিয়ে ৪-০তে উড়িয়ে কোয়ার্টারে উঠে গেছে পেপ গার্দিওলার দল।
২০১৬ থেকে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পর গত দু’বার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টারের আগেই বিদায় নিয়েছিল প্রতিযোগিতার সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদ। জিদানের কোচিংয়ে আবার কোয়ার্টারে পা রাখল তারা। ইনজুরি থেকে ফেরার দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার সার্জিও রামোস পেনাল্টি থেকে গোল করেন ৬০ মিনিটে। এর আগে ৩৪ মিনিটে লুকা মদ্রিচের পাস থেকে সহজ গোল করেন করিম বেনজেমা। চলতি মৌসুমে ৮ ম্যাচে ৮ গোল এই ফরাসির। পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭০ বা তার বেশি গোলের মাইলফলকে নাম লেখালেন এই ফরাসি। ৮৩ মিনিটে লুইস মুরিয়েল আতালান্তার হয়ে এক গোল শোধ দেন। কিন্তু পরের মিনিটেই আসেনসিওর গোলে তাদের ফিরে আসার চেষ্টা শেষ হয়।
লা লিগার শিরোপা দৌড়ে দল। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ওঠা গেল। এবার কি ডাবল জেতার আশা করছেন এমন প্রশ্নে জিদান বলেছেন, ‘আমরা সেটা করারই চেষ্টা করব। কেন করব না? সে জন্যই তো এখানে আছি। কাজটা অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেব। আমরা দুটি প্রতিযোগিতাতে ভালোভাবে টিকে আছি।’
ওদিকে সিটি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫ ম্যাচে ২৪তম জয় নিশ্চিত করেছে। মাত্র ১৮ মিনিটেই বরুশিয়ার ম্যাচে ফেরার আশা ভেস্তে দেয় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনে ও ১৮ মিনিটে ইকাই গুনডোগান গোল করেন। ম্যাচে জমাট রক্ষণের প্রশংসা পেয়েছে গার্দিওলার দল। গত চার আসরে রক্ষণের ভুলেই বিদায় নিতে হয়েছিল সিটিকে। ২০১৭তে মোনাকোর কাছে দুই লেগে ৬ গোল হজম করে তারা। পরের মৌসুমে লিভারপুলের কাছে দুই লেগে ৫ গোল, ২০১৯-এ টটেনহ্যামের কাছে চারটি এবং গত আসরে লিঁওর কাছে এক লেগের সেমিফাইনালে ৩-১ গোলে হারে সিটি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছর সিটির কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ অধরা গার্দিওলার। এই শিরোপার জন্য ক্লাব থেকেই চাপের কথা স্বীকার করলেন সিটি বস, ‘২০১৬ সালে এখানে যখন আসি তারা (মালিকপক্ষ) আমাকে বলে তোমাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে হবে। গত পাঁচ বছর এই চাপ প্রতি মৌসুমেই আমার কাঁধে থাকে। কিন্তু আমি এটা মাথায় নিচ্ছি না। ফুটবল মাঠের খেলা, মাঠে ভালো করলে অবশ্যই শিরোপা আসবে। খারাপ করলেও হতাশ হতে হবে, এটাই সত্য। তবে এই কঠিন মৌসুমে ফুটবলারদের স্পৃহা, আগ্রহ ও একাগ্রতা দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত। আমরা পিছিয়ে পড়েও প্রিমিয়ার লিগে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছি। লিগ কাপের ফাইনালে আছি। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রি-কোয়ার্টারে কোনো গোল খাইনি এবং এফএ কাপের সেমিফাইনাল খেলব। এর মানে গত ৯-১০ মাস আমরা শুধু এগিয়েছি। আমার মনে হয় এটাই সেরা ট্রফি। বরাবরের মতো এবারও আমরা শিরোপাটি জিততে চাই।’