সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর শহরের এক কিশোরী (১৭) অপহরণের ১২ ঘন্টা পর শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে ফিরেই আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের বাবা জানান, গত দুই বছর ধরে একই মহল্লার এক বখাটে ছেলে (১৬) বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। এ বিষয়ে তার অভিভাবকদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। গত বুধবার বখাটেদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে এক আত্মীয়র ছেলের সাথে জয়ার বাগদান সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বখাটে কিশোর বাগদান প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসার সামনে থেকে ওই বখাটে কিশোরসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার স্কুলছাত্রী মেয়েকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে একইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ মনোরথ নামের একজনকে আটক করে। এরপর ওইদিন গভীর রাতে মাহমুদপুর মহল্লার আনছার আলী জয়াকে থানায় পৌঁছে দেয়। সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সে বাসায় ফিরে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় ও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্বজনেরা অনেক ডাকাডাকি করে কোন সারা না পেয়ে অবশেষে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোরীকে অপহরণের বিষয়ে তার বাবা থানায় অভিযোগ করেছিল। রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিগ্ধ আক্তার বলেন, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।