আমরা ১৩০-এর দল না : তামিম

‘নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে খুব গর্ব করি। আমরা ১৩০ রান করার মতো দল না।’ গতকালের ম্যাচ শেষে কথাগুলো বলছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবালের। ওয়ানডে অধিনায়কের কথায় ভুল নেই। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং শক্তি নিয়ে সন্দেহ করবে না কেউ-ই। কিন্তু যত আফসোস ওই শক্তির প্রয়োগ নিয়ে। তাই ব্যাটিংয়ে প্রতিটি বাজে দিনের পর অধিনায়কদের ভুল শটের বাণী শোনাতে হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর তামিমও শোনালেন, ‘ অবশ্যই আমরা ভুল শট খেলে আউট হয়েছি, এজন্যই ১৩০ হয়েছে।’ এবং আগের মতো তামিমও আশা দিলেন এই ভুল থেকে বেরোনোর। তার সহজ স্বীকারোক্তি ব্যাটসম্যানরা ২৬০-২৭০ রান না করলে বোলারদের তো কিছু করার নেই।

প্রায় এক বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। আর বাংলাদেশ সম্প্রতি ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে উইন্ডিজের বিপক্ষে। কিন্তু দুদলের খেলায় স্পষ্ট বৈপরীত্য। অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে যে আগ্রাসন দিয়ে হারিয়েছিল, সেভাবেই খেলল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু বাংলাদেশ উইন্ডিজকে হারানো পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। ডানেডিনে সকালের আবহাওয়া ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী ছিল না। উইকেটে বাউন্স, সুইং সব হচ্ছিল। কিন্তু এসব তো বাংলাদেশের সবার জানা। তাহলে ভুলটা কোথায়? ভুল ওই ভুল শটে আউট হওয়া। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমও স্বীকার করলেন। নিউজিল্যান্ডে অনেক আগে গিয়ে ভালো প্রস্তুতি হয়েছে বলে জানা। তাই প্রস্তুতি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি তামিম, ‘এটা ঠিক যে সকালে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। সুইং হচ্ছিল বাউন্স হচ্ছিল, কিন্তু আমাদের আউটগুলো যদি দেখেন, প্রায় তিন-চারটা সফট ডিসমিসাল হয়েছে। যেগুলো আমরা চাই না। আমরা নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে খুব গর্ব করি। ১৩০ রান করার মতো দল আমরা না। ব্যাটিংয়ের জন্য যতই কঠিন পরিস্থিতি থাকুক না। আমার মনে হয় না প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আমরা কোয়ারেন্টাইনের সময় অনুশীলন করেছি। কুইন্সটাউনে পুরো অনুশীলন করেছি। তাছাড়া গত চার বছরে আমরা ২/৩ বার নিউজিল্যান্ডে এসেছি। তো আমরা জানি এখানে কী হয়, কোন ধরনের বল হয়-না হয়। তো প্রস্তুতি নিয়ে কোনো অভিযোগ হতে পারে না। আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো ছিল। অবশ্যই আমরা ভুল শট খেলে আউট হয়েছি। এজন্যই ১৩০ হয়েছে। আশা করি সামনের ম্যাচগুলায় এবার যে ভুলগুলা করলাম মানে সফট ডিসমিসাল, এগুলো যদি না করি তাহলেৃমানে এখানে (নিউজিল্যান্ড) যদি ভালো কিছু করতে হয় তবে আমাদের কমপক্ষে ২৬০-২৭০ রান করতে হবে।’

এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ে হারা ম্যাচ থেকে কোনো ইতিবাচকতা পাচ্ছেন না তামিম। একমাত্র অভিষিক্ত শেখ মাহাদি হাসানের বোলিং-ই যা একটু পাওয়া। গতকাল ৩২ বছরে পা দেওয়া তামিম বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক কিছুই নেওয়ার নেই। যদি বলতেই হয় তবে মাহাদির ৫-৬ ওভারের যে স্পেল সেটা বলতে পারি। ও খুব ভালো বল করেছে। এছাড়া কিছুই ইতিবাচক নেই।’

ঘুরে দাঁড়াতে হবে খুব দ্রুত। পরের ম্যাচের বাকি আর দুদিন। এই ভঙ্গুর ব্যাটিংকে বদলানোর জন্য শীর্ষ ৫ ব্যাটসম্যানের কোনো একজনকে বড় ইনিংস খেলতে হবে। এছাড়া বিকল্প দেখেন না তামিম। নয়তো প্রতিবারই বোলাররা লড়াইয়ের কোনো পুঁজি পাবেন না বলেও মানেন অধিনায়ক, ‘বোলারদের লড়াই করার মতো কিছু দিতে হলে আমাদের ২৬০-২৭০ রান করতেই হবে। আমরা যদি এভাবেই ১৩০ বা ২০০’র ভেতর অলআউট হয়ে যাই তাহলে বোলারদের ডিফেন্ড করার মতো কিছুই থাকবে না। এখানে টপ ফাইভ থেকে যে কোনো একজনের বড় রান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেরা ৫ থেকে কেউ রান পায় তবে দলীয় সংগ্রহ বড় করা সম্ভব, নয়তো খুবই কঠিন। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে, মানে আমরা দেশে যে কন্ডিশনে খেলি তার থেকে এখানে অনেক পরিবর্তন। তাই এখানে সেরা ৫ এর কাউকে বড় রান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ম্যাচে সাকিব আল হাসানের অভাব স্পষ্ট। ২০১৯ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে যেভাবে খেলেছেন সেই সাকিবকে ফিরে পেতে হলে তার জায়গাও ফিরিয়ে দিতে হবে। এ সিরিজে সাকিব নেই। কিন্তু দেশের মাটিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন নম্বর ছাড়তে হয়েছিল তাকে। ওই পজিশনে নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ। দেশে সৌম্য সরকারকে পাকাপাকিভাবে সাত নম্বরে খেলানোর কথা বলা হলেও নিউজিল্যান্ডে নামলেন তিনে। সাকিব না থাকায় তিন নম্বরে কাউকেই নির্দিষ্ট করতে পারছে না বাংলাদেশ। তামিম জানালেন টিম কম্বিনেশন এবং আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় শান্তকে টপকে তিনে রাখা হয় সৌম্যকে। প্রয়োজন হলে দলের ষষ্ঠ বোলারও ছিলেন সৌম্য, ‘এটা ঠিক আমরা বাংলাদেশে সৌম্যকে সাত নম্বরে রাখব বলেছি। কিন্তু এখানে যে টিম কম্বিনেশন করেছি তাতে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে কেউ ছিল না। রিয়াদ ভাই কোমরের ইনজুরির কারণে বল করতে পারত না। পুরো সিরিজেই বল করতে পারবে না। তো আমাদের ষষ্ঠ বোলিং অপশন সৌম্য। কারণ আমরা ৫ বোলার নিয়ে খেলেছি, এখানে কেউ যদি ভালো না করত তবে সৌম্যকে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে রাখতে হতো। আর ব্যাটিংয়ে আজ যেভাবে একাদশ সাজিয়েছি সেখানে তিন নম্বরে সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে সৌম্যই ছিল। এ কারণেই ওকে তিনে খেলানো। নিউজিল্যান্ডে তিনে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে ওর।’