নরেন্দ্র মোদির সাথেই আসতে পারে টিকার পরবর্তী চালান

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরবর্তী চালান আগামী ২৬ মার্চ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেই আসতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আসবেন। আমার মনে হয় ওনার সফরের সাথে পরবর্তী চালানের টিকা আসবে অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

রবিবার তেজগাঁওয়ে সিএমএসডির নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছর নভেম্বরে যে চুক্তি হয়েছিল, তার মধ্যে দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে।

দেশে সাধারণ ছুটি দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে আবদুল মান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত এরকম কোনও সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নেই। তবে জাতি স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে, সারা পৃথিবীতে বাঙালিরা উদ্‌যাপন করছে। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে, যদি আমাদের পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, হয়তো বা নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের বিদেশ থেকে এনে ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে। তবে দেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদন করার সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন উৎপাদনে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা নিজ দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি।

তিনি বলেন,  আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে করোনা বেশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখে ছিলাম। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যেসব রোগী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন। তারা কেউ কোথাও না কোথাও বেড়াতে গেছেন। যেখানে বেড়াতে গেছেন সেখানকার মানুষের সংস্পর্শে গেছেন। কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গেছেন। সেই সব জায়গা থেকে ফিরে আসা লোকজনের মধ্যে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, বর্তমান সময়ে সিএমএসডির গত যে কোন সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ। সরকারের বিধি মেনে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে গুণগত মান বজায় রেখে জিনিসপত্র ক্রয় করছে। এছাড়া সিএমএসডির ক্রয় প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করা হয়েছে। বহুদিন ধরে গুটিকয়েক কোম্পানির এই প্রতিষ্ঠানের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও এখন আর তা নেই।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও সিএমএসডির জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সাপ্লাই একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। আগামী এক বছরের জন্য সকল ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সংরক্ষণ করা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকর্তা সমন্বয় করে দিনরাত কাজ করছে।

সিএমএসডির নতুন ভবন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। নতুন পাঁচতলা ভবনটির এক থেকে তিন তলা পর্যন্ত ওয়্যারহাউস করা হবে। বাকি দুই তলা অফিসের কাজে ব্যবহার করা হবে। মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভবনের পাঁচ তলায় মুজিব কর্নার করা হয়েছে।