নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলে প্রযোজক ইকবালের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জিডি করেছেন। এদিকে ওমর সানীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পাল্টা মামলা করবেন বলে জানালেন প্রযোজক ইকবাল।
ওমর সানি দাবি করেন, গত ২ মার্চ রবিবার চলচ্চিত্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের সংগঠন 'বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডের অফিসে ক্লাবের সদস্যদের সামনেই সানিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন ইকবাল। তিনি জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে ফিল্ম ক্লাবে নাস্তা নিয়ে ওমর সানি-ইকবালের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা হয়৷ এ সময় ওমর সানিকে গালাগাল করে প্রাণনাশের হুমকি দেন ইকবাল। এ ঘটনার পর ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিত সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন৷ সেখানে ৬ মাসের জন্য ইকবালের সদস্য পদ স্থগিত ও ক্লাবে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি ইকবালের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন ওমর সানি।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সানি বলেন, ‘ক্লাবে একটা নতুন কাজের ছেলে এসেছে৷ সে অনেককেই এখনো চেনে না৷ ইকবালকেও চেনে না। ছেলেটাকে ডিম আনতে বলেছিলো ইকবাল। ডিম আনার পর ছেলেটা দাম চাইলে ইকবাল তার ওপর রেগে যায়। তখন আমি ছেলেটাকে বলি ডিম আনা মাত্রই তোমার টাকা চাওয়া ঠিক হয়নি। এ জন্য তার হয়ে আমি ইকবালকে সরি বলি। কিন্তু সে শুনেনা। উত্তেজিত হয়ে নোংরা গালি দেয়। আমার মৃত মাকে নিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। আমাকে প্রাণনাশের হুমকি- ধামকি দেয়। এ সময় ক্লাবের অনেক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারাই পরে ইকবালের শাস্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাদের পরামর্শে ইকবালের বিরুদ্ধে জিডি করেছি।’
অন্যদিকে ফেসবুকে লাইভে এসে ওমর সানির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেছেন প্রযোজক ইকবাল। তিনি সেখানে বলেন, ‘২২ দিনে আপ্যায়ন খরচ ২ লাখ ২১ হাজার টাকা। চা-বিস্কুট বাবদ এই খরচ হয়েছে! কোনো অতিথি গেলে এত টাকা খরচ হয়? এ বিষয় নিয়ে ক্লাবে গালাগাল করেছি। আমি কোনো ব্যক্তিকে গালাগাল করিনি। কিন্তু উনি (ওমর সানি) গায়ে নিয়েছেন। আমি নিজেই বলেছি- আমাকে বহিষ্কার করুন। এই অনিয়মের মধ্যে আমি থাকতে চাই না।'
তিনি ওমর সানিকে গালি বা প্রাণনাশের হুমকি দেননি বলে দাবি করেন ইকবাল৷ তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে জিডিটি করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
দেশ রূপান্তরকে প্রযোজক ইকবাল বলেন, ‘ওমর সানীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তিনি যেহেতু বাইরের লোক এনে ক্লাবের ভেতরে জুয়ার আসর বসান তাই তার প্রতিবাদ করেছিলাম। আর এর খেসারত হিসেবে তিনি আমার নামে মিথ্যা জিডি করেছেন। আমিও তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করব হাইকোর্টে। কারণ তার আচরণে আমার মানহানি হয়েছে বলে মনে করি।’