খুন, সন্ত্রাস ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চার কাউন্সিলর এখন কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া জঙ্গী, অস্ত্র ও মাদকে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন একজন।
নগরীতে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। দুই হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার। একটি হত্যা মামলায় কারাগারে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসান। পৃথক আরেকটি হত্যা মামলায় কারাভোগ করছেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন। সর্বশেষ কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সদস্য রোকন উদ্দিনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে গেছেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান।
কারাগারে থাকা ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল বিণ জলিল কুমিল্লা ও দেশব্যাপী বেশ আলোচিত হয়েছেন। কুমিল্লা নগরীর ছাতিপট্টি এলাকায় গত ১৯ মার্চ যুবলীগের মিছিলে প্রকাশ্যে গাড়ি তুলে দিয়ে কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা রোকন উদ্দিনকে গুরুতর আহত করেন তিনি। এরপর দুই হাতে রামদা নিয়ে নেচে উল্লাস করা তার ভিডিও ভাইরাল হয়ে। এ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অস্ত্রসহ উদ্দাম নৃত্য আতঙ্ক দেখা দেয় জনমনে। পরে পুলিশ সাইফুল বিন জলিলকে গ্রেপ্তার করে এবং যুবলীগ নেতা রোকনের দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
অভিযোগ রয়েছে, আটক করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করে দা উচিয়ে আসেন কাউন্সিলর সাইফুল।
কাউন্সিলর সাইফুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক বিক্রয়, সেবন, বাসস্ট্যান্ড ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, যুবদল করা সাইফুল, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমার সঙ্গে যোগ দেন। এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। গত ১২ মার্চ শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় নগরীর কাশারীপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নিজেই ইমামতি করতে দাঁড়িয়ে যান, এতে বাধা দিলে ইমামকে লাঞ্ছিত করেন কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। কুমিল্লা নগরীর চকবাজার বাসস্ট্যান্ড দখল করতে গিয়ে প্রকাশ্যে দা নিয়ে বাস মালিক শ্রমিকদের ধাওয়া দেন তিনি।
দু’টি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার। ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান জিলানী হত্যা ও ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ যুবলীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তে নাম আসে সাত্তারের।
জিলানী হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় পিবিআিই তার নাম অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করেন। জিল্লুর রহমান জিলানী হত্যা মামলায় কারাভোগ করছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসান। ২০২০ সালের ১০ জুলাই যুবলীগ কর্মী আক্তার হোসেন হত্যা মামলায় কারাভোগ করছেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন।
এ বিষয়ে কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, যেসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলররা অনুপস্থিত আছেন আমি সেসব ওয়ার্ডের সব বিষয়ে দেখাশোনা করছি।
তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অথবা প্রতিহিংসা যে কোনো কারণে কাউন্সিলরদের সঙ্গে এমন ঘটনা হতে পারে। সামনে নির্বাচন, এ কারণেও এটা হতে পারে, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এতে সিটি কর্পোরেশন বা নাগরিকরা সম্পৃক্ত না।