দোকান দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ

পাবনার ঈশ্বরদীতে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা আকমল হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন অবুঝকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনিকে আটক করা হয় বলে জানান ওসি আসাদুজ্জামান।

সংঘর্ষ চলাকালে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা এবং ভাংচুর চালানো হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন।

আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী রাতুলকে (২৬) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও শুভকে (২৬) ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া আহত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ মোড়ে একটি দোকান দখলকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনির সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মী রাতুল ও শুভর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি রনি (২৯), ছাত্রলীগ কর্মী রাতুল (২৫) ও শুভ (২৬) ছুরিকাঘাতে আহত হন।

এ ঘটনার পর দুপুর ১টায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বরে আবারো তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর পৌর যুবলীগ সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাবেক যুবলীগ নেতা কালাম মোল্লার বাড়ি ও ছাত্রলীগ সভাপতি রনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি তদন্ত অরবিন্দ সরকার ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সামনের একটি দোকানে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রনির ব্যক্তিগত অফিস ছিল। এই দোকানের মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। রনি এই দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। এই অবস্থায় ছাত্রলীগ কর্মী শুভ ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষের সহযোগিতায় বুধবার সকালে রনির অফিসে তালা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা আকমল হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা আমজাদ হোসেন অবুঝকে গ্রেপ্তার করা করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনিকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঈশ্বরদী শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনের দোকান, অফিস ও গাড়ি ভাংচুর এবং যুবলীগ নেতা কালামের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। একই সময়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ও ভাংচুর করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঈশ্বরদী শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।