ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, জিয়াউর রহমান সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জাকারিয়া চৌধুরী আর নেই। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
মৃত্যুর আগে তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ মার্চ অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ১১ মার্চ গ্রিন লাইফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
জাকারিয়া চৌধুরী ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমিক ও মাধ্যমিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পড়াশোনা করলেও ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। সেখানেই ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।
সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ১৯৬০ সালে ‘পূর্বসূরী’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৬৩ সনে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে এক সংক্ষিপ্ত সফরে গেলে জাকারিয়া চৌধুরী তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্বাধীনতার কথাটা বঙ্গবন্ধুর কাছে উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে এক মত পোষণ করেন। তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পুনরায় লন্ডন যান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তখন বিলেতে আজিজুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে যে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। তিনি ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে অর্থ সংগ্রহের জন্য হেমব্রোজ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনস্টার ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে চাঁদা জমা হতে থাকে, যা দিয়ে পৃথিবীব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের প্রচার কাজ চালানো হয়, যুদ্ধের জন্য কেনা হয় রসদ ও সাজ-সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে যুদ্ধের পর উদ্বৃত্ত টাকা দান করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে।
১৯৭২ সালে জাকারিয়া চৌধুরী দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।