ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের মশাল মিছিলে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। হামলায় সাঙবাদিকসহ প্রায় ৩০ আন্দোনলকারী আহত হন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্ত্বরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার টিএসসিতে ছাত্রজোটের ওপর হামলা চালিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় দেশ রূপান্তরের আলোকচিত্রী রুবেল রশিদসহ দুই সাংবাদিক আহত হন।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে টিএসসি এলাকা থেকে মশাল মিছিল বের করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটর নেতাকর্মীরা। জোটের মিছিলটি টিএসসি থেকে রোকেয়া হল হয়ে জগন্নাথ হল এলাকা, পলাশী, নীলক্ষেত, ভিসি চত্ত্বর হয়ে রোকেয়া হলের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে ভিসি চত্ত্বর এলাকায় হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে উপস্থিত প্রথম আলোর সাংবাদিক আসিফ হাওলাদারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকাল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, এ ছাড়া আহত অন্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ভিসি চত্ত্বর সংলগ্ন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান নেন।
হামলার বিষয়ে ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মোদিবিরোধী মিছিল শেষে আমরা ফিরে আসছিলাম। এসময় পিছন থেকে মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে। হামলায় আমাদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে আমরা পালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টারে অবস্থান নিলেও গেইট ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে আমাদের ওপর ফের হামলা করা হয়।
হামলায় আহত সাংবাদিক আসিফ হাওলাদার বলেন, হামলার জায়গা থেকে আমি অনেক দূরে ছিলাম। হঠ্যাৎ করেকজন দৌড়ে এসে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক বলেন, ছাত্রলীগ কারো ওপর হামলা করেনি। রাতে কিছু লোক ফুলার রোড দিয়ে বাঁশ, লাঠি নিয়ে আসছিল। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে আবার তারা ফুলার রোড দিয়ে চলে যায়।
এর আগে দুপুরে ‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় জেয়াফতের আয়োজন করলে ছাত্রলীগের সহসভাপতি উৎপল বিশ্বাসের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রাসেলের ওপর হামলা হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম রিয়াদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক তানসেন শেখ, বিজয় একাত্তর হলের দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তামিম এ হামলা করেন।
আবিদ হাসান রাসেল বলেন, টিএসসিতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছবি তুলছিলাম। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে, তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলে। আমি এসবের ছবি তুলছিলাম। এসময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসে। তখন আমি আমার সাংবাদিক পরিচয় দেই। আমার গলায় প্রেস আইডি কার্ডও ঝুলানো ছিলো। তারা আমার ফোন ও আমার আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে যায়। আমি বারবার বলতে থাকি, আমি সাংবাদিক। তারপরও তারা আমাকে মারতে থাকে। একপর্যায়ে মারতে মারতে টিএসসির সঞ্জীব চত্ত্বর থেকে ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে আরেক দফা হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আমি আত্মরক্ষার জন্য টিএসসির ভিতরে যেতে চাইলে সেখানেও আরও এক দফা মারধর করা হয়।
হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উৎপল বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, সাংবাদিকরা সব শিবির। আপনারা আমাকে কেন ফোন দিচ্ছেন।