স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ঢাকায় অঘোষিত কারফিউ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।
‘সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত’-এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কাউকে প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না, দেশের জনগণও তা মানবে না।’
তিনি বলেন, ‘এবারের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রশাসনের বিধিনিষেধের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের ছাড়াই শুধু শীর্ষ নেতা আসেন সমাধি প্রাঙ্গণে। তারা সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এবার বিএনপি নেতাদের সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তাই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢাকা জেলা ও বিভাগের নেতারা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তার ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে সেসময় মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা দেখছি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে তিনি বাংলাদেশের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের হাতে বন্দি রয়েছেন। আমাদের গণতন্ত্রের রাজনীতির অর্জন হচ্ছে এটা। ৫০ বছর পরেও আমরা স্বাধীন নই। একথা আমরা বারবার বলছি।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে জনগণের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এজন্য দেশের মানুষকে এখন আর আমরা স্বাধীন বলতে পারি না। আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন হয়েছে, শৃঙ্খলিত হয়েছে। এজন্য আমরা শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার সংগ্রাম করছি। আমরা শপথ নিয়েছি আমরা দেশকে, দেশের মানুষকে শৃঙ্খলমুক্ত করবই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাকে আমরা অবশ্যই মুক্ত করব। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবই।’
তিনি বলেন, ‘আজকে করোনা আগ্রাসীভাবে বাংলাদেশে আক্রমণ করছে। সরকার সেদিকে উদাসীন। কোনো দৃষ্টি দিচ্ছে না। তার মূল কারণ হচ্ছে, সরকার বিদেশি মেহমানদের নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। দেশের মানুষের কী হবে কী হবে না, এই বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ আমরা দেখছি না।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
স্মৃতিসৌধে ঢাকা জেলা নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন: বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মো. সালাহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সহ-সভাপতি খন্দকার শাহ মঈনুল ইসলাম, আজগর হোসেন প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকা জেলা বিএনপির নেতারা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। শুধু বিএনপি নয়, সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সংগঠনকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।