গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নেপালকে হারানোর স্বাধ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ২-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচটি শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে। তাতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছিল। তিন মাস পর সেই নেপালের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে সেটা ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভেন্যু ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় এই ম্যাচে জয়-পরাজয় বাংলাদেশের জন্য যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, স্বাগতিক নেপালের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। ত্রিদেশীয় সিরিজে কিরগিজস্তান যুব দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-০ জয়েই ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। নেপালের দুশ্চিন্তা থেকে গেছে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে বৃহস্পতিবার গোলশূন্য ড্র করে। আজ তাই নেপাল চাইবে পয়েন্ট নিয়েই ফাইনালে বাংলাদেশের মোকাবিলা করতে। লাল-সবুজের কোচ জেমি ডে আজ অনেকটাই নির্ভার থেকে চেষ্টা করবেন দলের ফুটবলারদের আরও বেশি পরখ করে নিতে।
নেপাল সফরটাই আসলে ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র কাছে গবেষণার উপলক্ষ হয়ে এসেছে। মনের গহীনে শিরোপা জয়ের ইচ্ছেটাকে চাপা দিয়ে রেখে তিনি শুধুই এই আসরটিকে জুনে বিশ^কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে বোঝাতে চাইছেন। এক ম্যাচ খেলে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় নতুন-পুরনো খেলোয়াড়দের পরখ করার পাশাপাশি নতুন কৌশলে খেলিয়ে দেখতে চাইছেন দলকে। আজও তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথাই বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচে নতুন তিনজনকে অভিষেকের সুযোগ দিয়েছি। আমরা যেহেতু ফাইনালে উঠে গেছি, সেহেতু আগামীকালের (আজ) ম্যাচেও আমি চাইব বাকিদের ঝালাই করে নিতে। তা ছাড়া এই আসরে আমরা প্রথাগত ঘর সামলে প্রতিআক্রমণনির্ভর কৌশলে না খেলে বিল্ড-আপ ফুটবলে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। নেপালের বিপক্ষেও আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বজায় থাকবে। কারণ, আমাদের মূল লক্ষ্য জুনের বিশ^কাপ বাছাই। এই টুর্নামেন্টের সেরা পারফরমারদের নিয়েই আমরা খেলতে চাই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচ।’
ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় আজকের ম্যাচের ফলাফল বড় প্রভাবক না হলেও দলের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া চান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশকে আরও দুটি জয় উপহার দিয়ে শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে, ‘সবাইকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছি ঠিক। কিন্তু দেশের মানুষকে আমরা আরও দুটি ভালো ম্যাচ খেলে শিরোপাটা উপহার দিতে চাই। স্বাধীনতার মাসে সেটা হবে বড় একটা প্রাপ্তি।’
জামালরা শিরোপায় চোখ রাখলেও দলের আক্রমণভাগের গোল না পাওয়ার ব্যামোটা নিশ্চিতভাবে ভাবাচ্ছে জেমি ডে’কে। একই অবস্থা নেপালের কোচ বালগোপাল মহারাজনেরও। বৃহস্পতিবার কিরগিজ যুব দলের বিপক্ষে নিদেনপক্ষে ১২টি গোলের সুযোগ নষ্ট করে তারা খানিকটা কঠিন সমীকরণের সামনে পড়েছে। এই ম্যাচটা জিতলে তো কথা নেই, ড্র করলে অথবা এক গোলের ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে যাবে নেপাল। ১-০ ব্যবধানে হারলে কিরগিজস্তান ও নেপালের পয়েন্ট ও গোলগড় সমান হবে। সেক্ষেত্রে হিসাব হবে কার্ড। এক্ষেত্রে স্বাগতিকরা এগিয়ে আছে। কারণ কিরগিজ দল নেপালের বিপক্ষে একটি লাল কার্ড দেখেছে। নেপাল কোচ বালগোপাল অবশ্য হারের কথা মাথায়ই আনছেন না, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি পজিশনেই ভালো খেলোয়াড় আছে। রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ খুব ব্যালেন্সড। আমি খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। এই ম্যাচে আমরা হারব, এই চিন্তাটাই মাথায় আনছি না। আমরা অলআউট ফুটবল খেলে নিদেনপক্ষে এক পয়েন্ট পেতে চাই।’ দলের আক্রমণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে বালগোপালের। সেটা আজকের ম্যাচের আগে স্পষ্ট করলেন নেপালের ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম তারকা ফুটবলার, ‘ফিনিশিংয়ের এই সমস্যাটা আমাদের দীর্ঘদিনের। হুট করেই এই সমস্যা থেকে বেরুতে পারব না। আমি প্রতিটি টিম মিটিংয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করি এবং চেষ্টা করি ফুটবলারদের এই সমস্যা থেকে বের করে আনতে। দেখা যাক আগামীকাল (আজ) কী হয়।’
বাংলাদেশের সামনে আজ নিজেদের জয়ের সংখ্যাটাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। এখন পর্যন্ত দু’দল মুখোমুখি হয়েছে ২৪ বার। এর মধ্যে ১৩ বার জিতেছে বাংলাদেশ। হার সাতটিতে, আর ড্র হয়েছে চার ম্যাচ। কিরগিজ কোচ জলদশভ নুরবেক বৃহস্পতিবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশকে আজ বিজয়ীরূপে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গেছেন, ‘আমি আশা করব নেপাল ও বাংলাদেশের শেষ খেলাটি খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুন্দর হবে। যেখানে অবশ্যই আমরা চাইব বাংলাদেশের বড় জয়।’