খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নে নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে নৌকার সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের বেতবুনিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হকসহ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে গেলে হাসপাতালে দুজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নৌকার প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজীর বাড়ি বেতবুনিয়া গ্রামে। সেখানে এনামুল হকের নির্বাচনী কার্যালয় রয়েছে। কিন্তু মান্নান গাজীর সমর্থকরা ওই এলাকায় এনামুল হকের আনারস প্রতীকের কোনো নির্বাচনী পোস্টার সাঁটাতে দিচ্ছে না। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এনামুল হক ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে যান। এ সময় তার উপস্থিতিতে আনারস প্রতীকের পোস্টার সাঁটাতে গেলে নৌকার সমর্থকরা বাধা দেন। পরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে এনামুল হক ও তার কয়েকজন সমর্থক পাশের বেতবুনিয়া গ্রামের লাভলু গাজী ও তার বোন মনিরার বাড়িতে আশ্রয় নেন। আব্দুল মান্নান গাজী, রবি গাজী, আবু সাইদ কালাইয়ের নেতৃত্বে একদল লোক লাভলু ও মনিরার বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় এনামুল, কিশোর কুমার ম-ল, মুজিবুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তখন এনামুলের কর্মী-সমর্থকরা এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শেখ আজিজ হাসান বলেন, গুরুতর আহত তিনজনকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জয়যাত্রা টেলিভিশনের পাইকগাছা উপজেলা প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম আসাদ ও দৃষ্টিপাত পত্রিকার পাইকগাছা প্রতিনিধি ফসিয়ার রহমান হাসপাতালে আহতদের তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়।
মান্নান গাজী বলেন, চেয়ারম্যান মুখ খারাপ করায় স্থানীয় লোকেরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে মারপিট করে।
এনামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পাইকগাছা থানার ওসি এজাজ শফি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ১০টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে।