ঢাবির শিক্ষক কোয়ার্টারে ছাত্রলীগের হামলা, প্রতিবেদন দেবে প্রক্টর কমিটি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে দিনভর তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়সহ ঢাকা মহানগরের নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুজন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত শিক্ষক কোয়ার্টারেও হামলা চালায় ছাত্রলীগের মহানগরের নেতা–কর্মীরা। এতে কোয়ার্টারের কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।

ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা শিক্ষক কোয়ার্টারে হামলা চালাচ্ছে এই ধরনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে এসে পৌঁছেছে। এতে দেখা যায়, নেতা–কর্মীরা শিক্ষক কোয়ার্টারের প্রধান ফটকে এবং শিক্ষক কোয়ার্টার লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। এ সময় হামলার সংবাদ সংগ্রহের ‘অপরাধে’ মারধরের শিকার হন দৈনিক প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আসিফ হাওলাদার।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসে মোদিবিরোধী কর্মসূচি শেষে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থিত স্মৃতি চিরন্তনের পেছনে অবস্থান নেয়। এ সময় ছাত্রলীগের মহানগরের নেতা–কর্মীরা সেদিকে অগ্রসর হয়। আমি তাদের পিছু নেই। স্মৃতি চিরন্তন এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা ফুলার রোডের দিকে পালাতে থাকে। তাদের পিছু নেয় ছাত্রলীগ। এ সময় তারা শিক্ষক কোয়ার্টারে বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে মনে করে কোয়ার্টারে হামলা চালায়। কোয়ার্টার লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় আমি বিষয়টি দেখার জন্য তাদের পেছনে অবস্থান করছিলাম। আমাকে দেখেই ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তেড়ে আসে এবং মারতে শুরু করে।

হামলায় কোয়ার্টারে কর্মরত নিরাপত্তা রক্ষী জমির উদ্দিন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইদ্রিস আলী নামে দুজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আহত হন। তারা বলেন, যখন হামলা হয়, তখন আমরা ভয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমাদেরও মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা যখন ২৫ মার্চ কালরাত্রির মোমবাতি প্রজ্বলন করে কোয়ার্টারে ফিরছিলাম। তখন মারামারির বিষয়টি আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। কিন্তু কারা কার সঙ্গে মারামারি করছে কিছুই বুঝতে পারিনি। শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় এভাবে ঢুকে পড়া, সেখানে মারামারি করা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা।

তিনি বলেন, ইদানীং আমরা লক্ষ্য করছি, বহিরাগতরা বন্ধ ক্যাম্পাসে এসে নানা ধরনের অপকর্ম করছে। টিএসসি হচ্ছে ছাত্র-শিক্ষকদের মিলনকেন্দ্র, এখন সেটা হয়ে গেছে হাটবাজার। এগুলো বন্ধে আমরা এক্সিকিউটিভ কমিটির সঙ্গে মিটিং করব।

শিক্ষক কোয়ার্টারে হামলা চলাকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান করছিলেন। এই বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছে। তাদের রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।