মোদির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন কামনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ইতিপূর্বে উপনীত প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন কামনা করেছেন।

শনিবার ঢাকায় তার অফিসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় শেখ হাসিনা ‘সীমান্ত ঘটনা’ শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘৯ বছর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত এ চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। কারণ পানি স্বল্পতার কারণে তিস্তা তীরবর্তী মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময় এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সীমান্ত ঘটনা শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিষয়টি যথাযথভাবে দেখভাল করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

ইহসানুল করিম জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সকল অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের যুক্তিসংগত সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মোদি আরও জানান, সীমান্ত ঘটনার ব্যাপারে গ্রাউন্ড লেবেল পর্যায়ে সহযোগিতা এর প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও ওঠে আসে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ নয়াদিল্লির সক্রিয় ভূমিকা আশা করে। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তার দেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ী প্রত্যাবাসন চায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাফল্যজনকভাবে টিকা প্রদান অভিযান শুরুর জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। তিনি ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ এতদঞ্চলের অন্যান্য দেশে টিকা সরবরাহের জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন। তিনি ১২ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা উপহার হিসেবে দেয়ার জন্যও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: বাসস।