টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জেলা কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই খন্দকার আরশাদুল আবিদ বাদী হয়ে শনিবার রাতেই রেদওয়ানার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মিজানকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন।
চাহিদামত যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় সৃষ্ট দাম্পত্য কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলার বাদী ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
গত সোমবার সকালে প্রসবব্যথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন সকাল ১০টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি মেয়েশিশু জন্ম দেন।
শনিবার বিকেলে হাসপাতালের দোতলায় ১১ নম্বর কেবিনে রেদওয়ানা ইসলামকে বালিশ চাপা ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর তার স্বামী দেলোয়ার পলাতক রয়েছেন।
দেলোয়ার পাবনা সদর থানার হেমায়েতপুর চার ভাঙ্গারিয়া গ্রামের মো. এলাহী মোল্লার ছেলে। তিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা সদরের মহাজনপট্টি শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
নিহত রেদওয়ানা ইসলাম রংপুর সদর থানার ইসলামপুর হনুমানতলার মৃত খন্দকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
রেদওয়ানার ছোট বোন ফাদওয়ানা ইসলাম ও ছোট ভাই আরশাদুল আবিদ জানান, ২০১৯ সালের ১৮ মে তাদের বোন রেদওয়ানা ও দেলোয়ার নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেন। এটা ছিল উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে। রেদওয়ানার আগের ঘরে ১২ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন যেতেই দেলোয়ার বিভিন্ন অজুহাতে রেদওয়ানার নিকট টাকা দাবি করত। চাহিদামত টাকা দিতে না পারলেই চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। রেদওয়ানকে একাধিকবার হত্যার হুমকি ও চেষ্টাও করা হয়। বিয়ের দুই বছরে দেলোয়ার ১৫ লাখ টাকা নিলেও সম্প্রতি আরও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকার জন্য দেলোয়ার একটি ফাঁকা চেকে রেদওয়ানার স্বাক্ষর নিয়ে রাখে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এরই মধ্যে রেদওয়ানার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা দেলোয়ার মানতে পারেনি। যে কারণে রেদওয়ানার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টাও করেছে সে।
শনিবার দুপুর দুইটার দিকে রেদওয়ানা ইসলামের মামি খোদেজা বেগম ও শিশুটির পরিচর্যাকারী মর্জিনা বেগম শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে পুনরায় তিনতলায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আটকানো দেখেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত নার্সকে তারা বিষয়টি জানান। পরে এক সেবিকা কেবিনটির দরজা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে রেদওয়ানাকে মৃত দেখতে পান।
এদিকে রেদওয়ানার ছয় দিন বয়সের কন্যাসন্তানটি শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির অবস্থা ভালো রয়েছে বরে কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে রেদওয়ানার ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে রবিবার বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুরে তার আর একটি জানাজা শেষে রাতে তাকে দাফন করা হবে বলে তার ছোট ভাই আরশাদুল আবিদ জানিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিজাউল হক বলেন, শনিবার রাতে নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক দেলোয়ার হোসেন মিজানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।