কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্প থেকে ষষ্ঠ দফায় পাঁচ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার ২ হাজার ৪৯৫ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু চট্টগ্রামের উদ্দেশ রওনা হয়। বাকিরা পর্যায়ক্রমে রওনা হবে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ৮৮৪ ও ২টার দিকে ৮৯০ এবং বিকেল ৪টার দিকে ৭১৯ জন ৪৭টি বাসযোগে উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বলে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত নিশ্চিত করেন। প্রশাসন ভাসানচরের যাওয়ার উদ্দেশে উখিয়া কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে তাদের খাবার, পানি, ওষুধ দেয়। সকাল থেকে ২০টি মিনিবাসে করে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে উখিয়া কলেজ ট্রানজিট পয়েন্ট ক্যাম্পে নিয়ে আসে সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহী এমন ২ হাজার ৪৯৫ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এসব রোহিঙ্গাকে আজ বুধবার চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের পতেঙ্গা থেকে ট্রলারে করে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে পঞ্চম দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে ১৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। ইতিমধ্যে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২, ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৪ এবং চলতি বছর ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় ৩ হাজার ২৪২ ও চতুর্থ দফায় ৩ হাজার ১৫, পঞ্চম দফায় ৪ হাজারের অধিকসহ ১৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে গত বছর মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছে।