টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সাইবার অপরাধ মামলায় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা ১৮ মার্চ সখীপুর থানায় আসে। এরপর থেকে পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে কাউন্সিলরসহ অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সখীপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা পারভীন মিনা বাদী হয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ওই কাউন্সিলরকে প্রধান আসামি করে এ মামলা করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি সখীপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে শফিকুল ইসলাম টানা দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সলর নির্বাচিত হন।
জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সখীপুর পৌর নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে শফিকুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাফিজুল ওয়ারেসের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন তাহমিনা পারভীন মিনা।
এ নিয়ে শফিকুল ও তার সমর্থকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কাউন্সিলর শফিকুলের নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়।
নির্বাচনে বিরোধিতা করায় ক্ষুব্ধ শফিকুল ও তার সমর্থকেরা একজন পুরুষকে শাড়ি পরিয়ে তাহমিনা আক্তার মিনা সাজিয়ে এবং একজন নারীকে পুরুষ সাজিয়ে তাহমিনার স্বামী পরিচয়ে মিছিলের সামনে দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করা হয়।
এ সময় মিছিলকারীরা কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন স্লোগান দেন। ওই মিছিলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচারও করা হয়। একজন নারীকে নিয়ে এমন অশোভন কর্মকাণ্ডে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় তাহমিনা পারভীন মিনা বাদী হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। পরে আদালত কাউন্সিলরসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা পারভিন মিনা বলেন, ‘নির্বাচনে আমার ভাশুরের ছেলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় শফিকুল ও তার সমর্থকেরা আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’
সখীপুর থানার উপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, কাউন্সিলরসহ আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।