সরকার সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে করোনা (কেভিড-১৯) পরীক্ষার জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করলেও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ২শ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ছালেহ আহমদ চৌধুরী জানান, করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য শনিবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের কোভিট-১৯ কাউন্টারে যান। তার কাছ থেকে আদায় করা হয় ২শ টাকা। এ সময় করোনা টেস্ট করতে আসা অপর এক ব্যক্তি হাসপাতালের এক কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে তিনি ১০০ টাকা ফিস জমা দেন।
এমতাবস্থায় সালেহ আহমদ চৌধুরী তার কাছ থেকে ১শ টাকার স্থলে ২শ টাকার নেয়ার কারণ জানতে চাইলে সাইফুল জানান ফি বাড়ানো হয়েছে। পরে হাসপাতালের সিনিয়র ল্যাব টেকনিশিয়ান জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে নিশ্চিত হন ফিস বাড়ানো হয়নি।
ছালেহ আহমদ বাড়তি টাকা নেয়ার ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করলে সাইফুল নিজের পকেট থেকে ১শ টাকা ফেরত দেন।
মুঠোফোনে সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, রিপন নামে এক যুবকের কাছে সালেহ আহমদ চৌধুরী ২শ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি বাড়তি টাকা নেননি। রিপনের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তাকে চেনেন না বলে জানান।
রিপন বাড়তি টাকা নিলে ১শ টাকা তিনি কেন নিজ পকেট থেকে ফেরত দিলেন এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সাইফুল।
ছালেহ আহমদ চৌধুরী জানান, গত মঙ্গলবার তার ছেলের পরীক্ষা করানোর সময়ও ২শ টাকা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুধু তিনি নন, শনিবার পরীক্ষার জন্য লাইনে থাকা অন্যান্য লোকজনের কাছ থেকেও ২শ টাকা আদায় করেছেন সাইফুল।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২শ টাকা নেয়ার তো কথা নয়। বিষয়টি আমি দেখছি।
বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়টি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এখনই আলাপ করবো।
উল্লেখ যে, কাউন্টারের সামনে ফিস সংক্রান্ত কোনো নোটিশ না থাকায় হাসপাতাল কর্মচারীদের একটি চক্র করোনা পরীক্ষা করতে আসা সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে এভাবে বাড়তি টাকা আদায় করছে বিনা রশিদে।