মহেশখালীতে আ.লীগের অফিসে হেফাজতের হামলা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে ‘অবরুদ্ধ’ করার প্রতিবাদে কক্সবাজারের মহেশখালীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দলটির সমর্থকরা। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, ওইদিন রাতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার পাশাপাশি স্থানীয় দুটি বৌদ্ধ মন্দিরেও হামলা চালানোর চেষ্টা করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, হেফাজত নেতা মামুনুল হক ‘অবরুদ্ধ’ হয়েছেন, এমন খবরে শনিবার রাতে মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করে দলটির সমর্থকরা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে বাজার এলাকায় জড়ো হয়। রাত ১২টার কিছু সময় পর একটি বিশাল লাঠি মিছিল বড় মহেশখালী থেকে উপজেলা সদরের দিকে পৌঁছে। মিছিলটি পৌর শহরের গোরকঘাটা বাজার থেকে সড়কের দু’পাশে ভাঙচুর চালিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় যায়। কিন্তু মূল ফটক বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন দপ্তরের জানালা ভাঙচুর করে তারা। পরে মিছিলটি মহেশখালী থানার সামনে গিয়ে থানায় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সেøাগান দিতে থাকে। মিছিলকারীরা বড় মহেশখালী বাজারে পৌঁছে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজ মিয়ার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা করে এবং বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়েই বেশ তাণ্ডব চালায়। তারা কার্যালয়টির দরোজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে আসবাবপত্র বাইরে নিয়ে এসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জানা যায় এলাকায় বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা কলিমুল্লাহ হাসান মুন্নার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লোকজনকে পিটিয়ে আহত করে। এ সব ঘটনায় ওইদিন রাতেই মহেশখালী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘যে কোনো উপায়েই এমন জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করবে পুলিশ।’ মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। সমগ্র বিষয়টিকে কঠোরভাবে দেখছে পুলিশ।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘মামুনুল হক ইস্যুতে মহেশখালীতে যে বা যারা তা-ব চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’