হাড়ের ক্ষয়রোধে করণীয়

আমাদের শরীরের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে হাড়ের ওপর। তাই সুস্থ দেহের জন্য হাড় সুস্থ রাখা জরুরি। প্রতিদিনই আমাদের হাড়ের কোষগুলো তৈরি হয়, আবার ধ্বংস হতে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর হাড়ে ক্ষয়ও হতে শুরু করে। হাড়ের ক্ষয় নিঃশব্দে ঘটে। একসময় হাড় দুর্বল হয়ে যায়। প্রথম ফ্র্যাকচার না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না। এটি প্রধানত বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। যেসব নারীর বয়স সাধারণত ৪০ বছরের ওপরে। তবে পুরুষেরও এ রোগ হয়ে থাকে।

কারণ

দেহে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে, দেহে ভিটামিন-ডি-এর অভাব হলে, মেয়েদের ইস্ট্রোজেন হরমোন ও ছেলেদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করলে হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ধূমপান করলে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে গিয়ে হাড়ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। বয়স বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন অস্টিপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

হাড় ভালো রাখতে

হাড়কে সুস্থ রাখার জন্য কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। যেমন- সকালে অথবা বিকেলে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, খেলাধুলা করা। লম্বা সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা। শরীর সোজা রেখে হাঁটা ও বসার সময় বাঁকা হয়ে বা সামনে ঝুঁকে না বসা। ভারী কিছু তুলতে গেলে কোমর ভেঙে বসে তোলা। ঘুম থেকে ওঠার সময় সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে না উঠে হালকা কাত হয়ে ওঠা। শোয়ার সময় বেশি উঁচু বালিশ ব্যবহার না করা। খুব বেশি নরম বিছানায় না শোয়া। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রতিদিন কিছুটা সময় সূর্যের আলোয় থাকা, যাতে শরীর সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি গ্রহণ করতে পারে।

যে খাবার হাড় সবল রাখে

ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, দুগ্ধজাত খাবার। ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-কে-সমৃদ্ধ খাবার। যেমন কলিজা, ডিম, মাংস। পর্যাপ্ত প্রোটিন : মাংস, প্রাণিজ হাড়, ছোট মাছ, সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, পানি, ফল-মূল, মাছের তেল, ঘি, জিংকসমৃদ্ধ খাবার কলা, বাদাম, চিংড়ি, গরুর মাংস, শস্যবীজ প্রতিদিনই এর কিছু না কিছু খাবার তালিকায় রাখা উচিত। চলতে-ফিরতে হাড়ে ব্যথা পাওয়া স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যথার ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।