ধার করা চিকিৎসকে চলছে আইসিইউ!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল অবস্থা বরিশালে। পুরো বিভাগজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। দেশে করোনা সংক্রমণ নতুন করে বাড়ার পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকের অভাবে রোগীর এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে। একইসঙ্গে হাসপাতালটির করোনা ওয়ার্ডে সাধারণ ও আইসিইউ শয্যার সংকটও তীব্র আকার নিয়েছে। অন্যদিকে আইসিইউ ওয়ার্ডে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় ধার করা চিকিৎসক দিয়ে চালাতে হচ্ছে আইসিইউ সেবা।

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান জানান, গতকাল সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১১৮ জন রোগী। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসক নেই। অন্য বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে চিকিৎসক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মোট ৩০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। যা প্রয়োজনের তুলানায় মাত্র ৬০ ভাগ। তারা ৩ শিফটে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আরও চিকিৎসক দরকার। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে সেবার পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

শেবাচিম হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২১ জনের করোনা পজিটিভ ছিল। ওয়ার্ডের মোট ১২টি আইসিইউ বেডের সবগুলোই রোগীতে পরিপূর্ণ। করোনা ওয়ার্ডে আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন রোগী আছেন, যাদের জরুরি আইসিইউ সেবা প্রয়োজন। কিন্তু বেড না থাকায় তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, বরিশালে করোনা সংক্রমণের হার গত বছরের তুলনায় দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই। ফলে অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তির হারও কয়েক গুণ বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

শেবাচিম হাসপাতালের ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও করোনা মনিটরিং কমিটির সদস্য ডা. সুদীপ হালদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রোগী বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। করোনা ওয়ার্ডের একটি বিছানাও ফাঁকা নেই। আজ (গতকাল সোমবার) ১১৮ জন রোগী ভর্তি ছিল। বর্তমানে মেঝেতেও রোগী ভর্তি হচ্ছে।’ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও অনুরোধ জানান এই চিকিৎসক।

প্রায় একই রকমের তথ্য দিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লঞ্চ-বাসসহ কোনো ধরনের জনসমাগমেই সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফলে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হঠাৎ করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতেই হবে। তা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’