সারা দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দারা। এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলেও এখানে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রত্যেক দিনই খদ্দের আসছেন। পেশাগত কারণে তাদের সময় দিচ্ছেন কর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পরিবেশ এমনিতেই ঘিঞ্জি। অল্প জায়গায় অনেকে বসবাস করায় স্বাভাবিক সময়েও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। করোনাকালে পল্লীতে স্বাস্থ্যবিধি তেমন মানা হয় না। এখন যে হারে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, খদ্দেরদের কে, কোথা থেকে আসছেন তার কোনো তথ্য নেই। পল্লীর বাসিন্দারাও সচেতন নন। ফলে একবার এখানে সংক্রমণ ছড়ালে তা ভয়াবহ আকার নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে দৌলতদিয়া পল্লীতে ১ হাজার ৬০০ যৌনকর্মী বসবাস করছেন। তবে বিভিন্ন এনজিও এ সংখ্যাকে ৫ হাজারের বেশি দাবি করে আসছে। পাঁচ বছরের বেশি পল্লীতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করা কেয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে এখানে রয়েছি। প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খদ্দের আসা-যাওয়া করেন। পেশাগত কারণে তাদের ঘরে নিতে হয়, না বলার সুযোগ নেই। কিন্তু এদের মধ্যে কে করোনায় আক্রান্ত, কে সুস্থ তা শনাক্তের কোনো উপায় পল্লীতে নেই। এজন্য আতঙ্কে রয়েছি। কিন্তু কাজ না করলে যে পেটে ভাতও যাবে না।’
মনি বেগম নামে আরেক যৌনকর্মী বলেন, ‘গত বছর করোনার কারণে পল্লী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রশাসন আমাদের সহায়তা দিয়েছে। এবার কী হবে জানি না। এখন পর্যন্ত পল্লীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে, লোকজন যদিও একটু কম। বন্ধ করে দিলে অবশ্যই আমাদের জন্য প্রশাসনকে বিকল্প ভাবতে হবে।’
স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে এ দুই নারী বলেন, ‘সার্বিকভাবে পল্লীতে সচেতনতা কার্যক্রম নেই। অল্প জায়গায় এত মানুষের পক্ষে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। তবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু সাবধানতা অবলম্বনের চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৌলতদিয়া পল্লীর বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা আসেনি। এজন্য আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যৌনকর্মীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা এলে তা বিতরণ করা হবে।’