অন্য অনেক এশীয় আমেরিকানের মতোই ২৯ বছর বয়সী জেনিফারকে দুই নামের জাঁতাকলে পড়তে হয়। তার দুই নামের একটি এশীয়, অন্যটি আমেরিকান। জেনিফার তার বৈধ নাম, এই নামে তার শিক্ষকরা ও নিয়োগকর্তারা ডাকেন। আর তার নামের পরের অংশটি সাহাব। হেমং ভাষায় সাহাব শব্দের অর্থ নতুন। জেনিফারের পরিবার ও কাছের মানুষ তাকে সাহাব নামেই ডাকে।
চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হেমং জাতির বসবাস। অধিকাংশ হেমং আমেরিকানের মতোই ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লাওস থেকে জেনিফারের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসে। শিকাগোতে বসবাসরত জেনিফার বলেন, ‘যখন আমি জেনিফার নাম বহন করি, তখন মনে হয় আমি অভিনয় করছি। এটা অনেকটা শ্বেতাঙ্গদের মতো করে আমেরিকান ড্রিমকে দেখা। সাহাব এবং জেনিফারের মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। আমার মনে হয়, আমি সাহাব হয়েই থাকতে চাই, কিন্তু এ দেশে জেনিফার হয়ে ভিন্ন জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরেই এশীয় আমেরিকানরা অ্যাংলো নাম ব্যবহার করছেন। এ নাম ব্যবহারের ফলে তাদের অনেকটা শ্বেতাঙ্গ মনে করা হয়। উনিশ শতকের দিকে এ নাম পাল্টানোর বিষয়টি ব্যাপক হারে শুরু হয়। কারণ তখন থেকেই মূলত এশীয়দের আমেরিকায় বর্ণবাদ ও জেনোফোবিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমেরিকায় বহু বর্ণের মানুষ বাস করে। এ সমাজের অনেক উঁচু তলায় এশীয় আমেরিকানরা আছেন। কিন্তু ক্ষমতা ও অর্থ থাকলেও তাদের নামের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, নামসংক্রান্ত জটিলতায় তারাও আছেন।
মার্ভেলের অভিনেত্রী চোলে বেনেট তার ওয়াং নাম পরিবর্তন করেছেন হলিউডের বর্ণবাদী আচরণের কারণে। স্টার ওয়ার্সের অভিনেত্রী কেলি মারিকেও তাই করতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজ সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
ইহুদি ও ইউরোপিয়ান অভিবাসীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নাম পরিবর্তন করতে দেখা যায়। অবশ্য তাদের এ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে নামের উচ্চারণ। আমেরিকানদের পক্ষে ইহুদি ও ইউরোপিয়ানদের নাম উচ্চারণে সমস্যা নয়। এ সমস্যা এড়াতে তারা নিজেদের নাম পাল্টে আমেরিকান নাম গ্রহণ করেন। অন্য মহাদেশের মানুষের তুলনায় এশীয়রা আমেরিকায় বসবাসের ক্ষেত্রে নাম নিয়ে বেশি জটিলতায় পড়েন। এর পেছনে ঔপনিবেশিক মনস্তত্ত্ব ও আর্থিক অনগ্রসরতাকে দায়ী করেন বিশ্লেষকরা।