ব্যাডমিন্টনে শ্রেষ্ঠত্ব ঊর্মি-গৌরবের

ক’দিন আগেই বাবা হারিয়েছেন ব্যাডমিন্টনে দেশসেরা শাপলা আক্তার। পাবনায় বাবার বাড়িতে অবস্থান করায় সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া চোট ছিল বলে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে অংশ নেননি। শাপলার মতোই আরেক তারকা এলিনা সুলতানাও নেই এবার। সন্তানসম্ভবা বলেই খেলেননি তিনি। নারী ব্যাডমিন্টনের দুই সেরা না থাকায় কোর্টে আলো কেড়ে নিয়েছেন ঊর্মি আক্তার এবং বৃষ্টি খাতুন। বাংলাদেশ আনসারের ঊর্মি কাল এককে হারিয়েছেন সেনাবাহিনীর বৃষ্টিকে। অথচ বৃষ্টিদের কাছেই কাল মেয়েদের ডাবলসে ধরাশায়ী হয়েছিল ঊর্মিদের দল। পুরুষদের এককেও নতুন সেরার দেখা মিলেছে। ফাইনালে সিলেটের গৌরব সিংহ ২-০ সরাসরি সেটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আল আমিনকে হারিয়েছেন।

গতকাল পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে সকালে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের এককের ফাইনাল। প্রথম গেমে অবশ্য ঊর্মিকে ২৩-২১ পয়েন্টে হারিয়েছিলেন বৃষ্টি। তবে পরের দুই গেমে ২১-১৩ ও ২১-১৪ পয়েন্টে জিতে সোনা নিশ্চিত করেন ঊর্মি। কিছুদিন আগে র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে সেরা হওয়া ঊর্মি এই জয়টাকে দেখছেন ডাবলসে হারের প্রতিশোধ হিসেবে, ‘ডাবলসে সোনা জিততে পারিনি। ভাগ্যে ছিল না বলেই হয়তো পাইনি। তবে একটা জেদ কাজ করছিল। র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে সেরা হয়েছিলাম বলেই এককে খেলতে নেমে বাড়তি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তাই পিছিয়ে পরেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। ২০১৬ সাল থেকে সিনিয়র পর্যায়ে খেললেও এটাই আমার সেরা অর্জন। আসলে শাপলা আর এলিনা আপা না থাকায় আমার জন্য কাজটা সহজ হয়েছে। তবে তারা থাকলেও আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো করার। তারা থাকলে আসরটা আরও জমজমাট হতো।’ বিকেলে ছেলেদের এককে অবশ্য গৌরবকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেননি জুমার। প্রথম গেমটি গৌরব জিতে নেন ২১-১৯ পয়েন্টে। সিলেট এনাম অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এ শাটলার দ্বিতীয় গেম জিতেছেন আরও সহজে ২১-১৬ পয়েন্টে। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ এর আগে সেমিফাইনালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সালমান খানকে হারান। সোনা জয়ের পর গৌরব বলেন, ‘আমি দুইবার জাতীয় র‌্যাংকিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। একবার সালমান ভাইয়ের কাছে হেরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ হয়েছিলাম। এবার তো সালমান ভাইকে সেমিফাইনালেই হারিয়ে দেই। তখনই ভেবেছিলাম ফাইনালে আমিই জিতব।’