বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ঢাকা। উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত বর্জ্য। ফলে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু। কর্তৃপক্ষ বলছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংকটের জন্য এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অথচ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মানা হচ্ছে না কিছুই। ওয়ার্ডের যেখানে-সেখানে ময়লার স্তূপ। বেসিন, বাথরুমও ব্যবহার অনুপযোগী।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে প্রবেশের ঠিক ডানপাশে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্যরে স্তূপ পড়ে আছে। করোনা ওয়ার্ডের যাবতীয় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সেখানে। পাঁচতলা করোনা ওয়ার্ড ভবনের প্রতিটি তলার প্রতিটি কক্ষ নোংরা-দুর্গন্ধময়।
ওয়ার্ডের মেঝেতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। ময়লা পড়ে কালো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মেঝের টাইলস। সব শেষ কবে করোনা ওয়ার্ড পরিষ্কার করা হয়েছে তা জানা নেই কারোর। বর্জ্যরে গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা করোনা ওয়ার্ডের রোগী ও তাদের স্বজনদের। নোংরা পরিবেশে মুমূর্ষু রোগী ও স্বজনরা দিশেহারা।
অন্যদিকে এক বছর আগে শুরু হওয়া নতুন পাঁচতলা ভবনের সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ অক্সিজেন সিলিন্ডার ওঠানামা করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে অসুস্থ রোগীদের ওঠানামা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকা চম্পা মালাকার জানান, করোনা ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। একজন লোক আছে যিনি সারা দিন অক্সিজেন সিলিন্ডার ওঠানামা করতে করতে ক্লান্ত। এ অবস্থায় পেটেভাতে কর্মীরা রোগীদের বখশিশের টাকায় কোনোমতে ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখছেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, করোনা ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখতে তিন শিফটে চতুর্থ শ্রেণির অন্তত ৩০ জন কর্মচারী দরকার। সেখানে আছে মাত্র তিনজন। তারপরও তারা সাধ্যমতো করোনা ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনের ১০ ভাগের একভাগ কর্মী দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী করোনা ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এটা যে খুব ভালোভাবে চলছে তা বলা যাবে না। চালানোর জন্যই করোনা ওয়ার্ড চালাচ্ছেন।
এ সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা কর্মচারী নিয়োগ দিলে এ সমস্যা আর থাকবে না।