রাঙ্গুনিয়ায় আ.লীগ নেতা মহিবুল্লাহ হত্যা

মামলা ভিন্ন খাতে ঘোরানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতাদের

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হেফাজতের সশস্ত্র হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে কোদালা গ্রামে। ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের মানুষ। পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে গ্রামটি। পাশাপাশি মহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে মামলা নিয়ে বাণিজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। হত্যা মামলা যাতে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয় এজন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দলটি।

কোদালা দক্ষিণপাড়া গ্রামবাসী মোহাম্মদ লোকমান জানান, খুনের ঘটনার পর থেকে ইউনিয়নের সর্বত্র কয়েক গ্রুপে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মহিবুল্লাহ খুনের মামলায় শত শত অজ্ঞাত আসামি করায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

গত বুধবার নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লার জানাজার দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার অভিযোগ করেন, হেফাজতের সশস্ত্র হামলায় নিহত মহিবুল্লার হত্যাকা-কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মামলা নিয়ে বাণিজ্যের চেষ্টা চলছে। তিনি প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। তদন্ত কমিটির সদস্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসহাক জানান, হেফাজতের সশস্ত্র হামলায় মহিবুল্লা হত্যাকা-ের প্রকৃত আসামিদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। তিনি তদন্তের স্বার্থে এর বাইরে কিছু জানাতে অপারগতা জানান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ৩ এপ্রিল  নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারীসহ অবরোধের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাত ৮টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার কোদালায় হেফাজত বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল থেকে হামলা করা হয় স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আব্দুল জব্বার, দিলদার আযম লিটন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহর ওপর। গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহ (৫২) চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।