মেডিকেলে চান্স পেয়েও টাকার জন্য ভর্তি অনিশ্চিত!

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নিক্কন রায়ের। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দরিদ্রতা। নিক্কন রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের সুন্দরবন গ্রামের হতদরিদ্র খনিজ চন্দ্র রায়ের ছেলে সে।

নিক্কন রায়ের বাবা ভ্যানচালক, মা দিনমজুর। পরিবারে অভাব-অনটন যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। দুই ভাইসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। নিক্কন রায়ের বাবা খনিজ চন্দ্র রায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিন আয় মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। বাবার একার পক্ষে সংসারের খরচ জোগানোই কঠিন। তাই নিক্কন মেধা তালিকায় স্থান পেলেও মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

নিক্কনের বাবা খনিজ চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে এতে আমি খুশি। কিন্তু আর্থিক অনটনের সংসার আমার। অনেক কষ্টে ছেলেকে এত দূর এনেছি। মেডিকেলে ভর্তি করাসহ পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো অবস্থা আমার নেই। কীভাবে ছেলের ভর্তির টাকার জোগান হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি আমি।’

নিক্কনের মা মমতা রানী রায় বলেন, ‘আমাদের কোনো জমিজমা নেই। শুধু বসবাসের জন্য ভিটেমাটিটুকুই আছে। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। এখন নিক্কনের মেডিকেলে ভর্তি ও ডাক্তারি পড়ার টাকা কোথা থেকে আসবে তা ভেবে পাচ্ছি না আমরা।’ সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা ছাড়া মেধাবী নিক্কনের মেডিকেলে ভর্তি অসম্ভব বলে জানান তার মা-বাবা।

আর নিক্কন রায় বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে মেধা দিয়েছে। কিন্তু বাবা-মাকে অর্থ দেয়নি। তৃতীয় শ্রেণি থেকেই আমি স্কুল-কলেজে প্রথম স্থান অধিকার করে আসছি। এত টাকা খরচ করে আমাকে মেডিকেল কলেজে পড়ানো সম্ভব নয় বাবার পক্ষে।’