‘সব গরু বাংলাদেশে পাচার হয়ে গেল’

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতায় পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে এই রাজ্যের শাসকদের সমালোচনার পাশাপাশি বিজেপি জিতলে কী কী উন্নয়ন হবে সেই ফিরিস্তিও দেন।

সেই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নাম নেন দুটি প্রসঙ্গে। এর একটি হলো দুগ্ধ সমবায় প্রসঙ্গে ‘গরু পাচার’। শাহর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সব গরু বাংলাদেশের পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ছিটমহল কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশকে টানেন তিনি।

বাংলার জমি উর্বর বলেই তো ছোট ছোট টুকরো হয়ে গিয়েছে। শিল্পের জন্য সেই ছোট ছোট জমি নিয়ে তো সমস্যা হবে— এমন প্রশ্ন ছিল শাহর কাছে।

তিনি বলেন, “গুজরাটে আমূলে (দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান) ২৫ লাখ মহিলা কাজ করেন। সারা পৃথিবীতে সেই দুধ যায়। এখানে বাড়িতে একটা গরু পালন করতে তার দশ ভাগের একভাগ খরচ করতে হয়। একটা মহিষ পুষতেও গুজরাটের দশ ভাগের একভাগ খরচ হয়। কিন্তু এখানে তো কোনো সমবায় ডেয়ারি গড়ে উঠল না? কোনো আন্দোলনই হলো না। উল্টো সব গরু বাংলাদেশে পাচার হয়ে গেল! আসলে কেউ কোনো অভিমুখই ঠিক করেননি।”

শিল্প ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলছিলেন, আমি এখনো মনে করি, এত দিন খারাপ থাকার পরেও বাংলাতেই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বিষয়টি বিস্তারিত বলেন এভাবে, “আমি যে রাজ্যের বাসিন্দা, সেখানে মাটির ১,২০০ ফুট নিচে জল পাওয়া যায়। এখানে ৬০ ফুট খুঁড়লেই জল পাওয়া যায়। সারা দেশের উর্বরতা এই রাজ্যে নিয়ে আসে গঙ্গা নদী। পূর্ব ভারতে ব্যবসা করার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হতে পারে বাংলা। পুরো পূর্ব ভারতের বাজার খুলে যাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের পর যে রাস্তা খুলবে, সেটা উত্তর-পূর্বের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ এবং সংক্ষিপ্ত করে দেবে। আরও দুটো-তিনটা বন্দর তৈরি করে বিহার থেকে অসম পর্যন্ত পুরো শিল্পায়নের ফসল সারা পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়ার একটা বড় রাস্তা হতে পারে বাংলা।”